শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরের টেপিরবাড়ী এলাকার কালার এণ্ড কোং নামের একটি কারখানায় শ্রমিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে কারখানার ৭৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অসুস্থ হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী শ্রমিক। এদের মধ্যে সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তারা কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কারখানার শ্রমিক সাইদুল ইসলাম ও কুলসুম আক্তার বলেন, অন্যান্য দিনের মতই মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে কারখানায় কাজে আসে শ্রমিকরা। এরকিছু সময় পরই কারখানার পঞ্চম তলার সুইং বিভাগে কয়েকজন নারী শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর আসে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পরপরই অসুস্থ হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তারা মাথা ঘুড়ানো, পেটে ব্যাথা, বমি বমি ভাব ও শ্বাসকস্ট জনিত সমস্যা দেখা দেয়। কারখানার ব্যবস্থাপনায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে আনা হয়।
আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসেন বলেন, বমি ভাব, মাথা ঘুড়ানো ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ৭৭ জন শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী শ্রমিক। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাতজনকে উন্নত চিকিৎসারর জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসা শেষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তিনি জানান, হঠাৎ এত রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতালের রোস্টারের বাইরে থাকা নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তাৎক্ষণিক কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। তবে অসুস্থ শ্রমিকরা কি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তা তিনি নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
অসুস্থ হওয়ার কারণ হিসেবে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে অসুস্থ শ্রমিকরা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত। তাদের উপসর্গের নমুনা পরীক্ষার পর বিস্তারিত বলা যাবে।
গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনর রহমান। তিনি জানান, এধরনের সমস্যাকে বলা হয় “মাস সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট”। যা আতঙ্ক জনিত কারণে হয়ে থাকে, অর্থাৎ যেখানে অনেক লোকজন, তাড়াহুড়ো করে নামতে যাওয়া আতঙ্ক ছড়ানো এসব কারণে মূলত হয়ে থাকে। এখানেও তাই হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে খোঁজ খবর নিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে কারখানার কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানিকভাবে কোন ধরনের বক্তব্য প্রদান করেননি।
এর আগে, গত মাসের ২৪ জুন এই কারখানায় অসুস্থ হয়ে লিজা আক্তার নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, ছুটি না পেয়ে অসুস্থ হয়ে লিজা মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ঘটনার জের ধরে বিক্ষোভ ও আন্দোলনের কারণে দুই দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছিল।
