সংস্কার দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো সংস্কার প্রস্তাবগুলো আগামী দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেগুলোতে একমত হয়নি সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলমান রাখতে হবে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (সিআইপিজি) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. তোফায়েল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের উপকারভোগী গোষ্ঠীগুলো প্রতিবিপ্লবের বিষয়ে সচেতন নয়। যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা যদি অবহেলায় হারিয়ে ফেলি তাহলে স্বৈরাচার আবার ফিরে আসবে। তাই রাষ্ট্রীয় সংস্কার করতে হবে। শুধু ভোট আয়োজন করাই সংস্কার নয়।

প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যগত ভুলগুলো সংশোধন করা না গেলেও সরকার ভোটার তালিকা ও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করতে পারে।

সিআইপিজির চেয়ারম্যান ড. মো. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ও সাবেক সচিব ড. মো. শরিফুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তারা ভোটাধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল অরাজনৈতিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। তাই সনদে সব জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। এই সনদকে আইনি দলিল হিসেবে রূপান্তর করা প্রয়োজন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারিসুল করিম নির্বাচনি পদ্ধতির সংস্কার সম্পর্কে বলেন, বর্তমান একক সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্ধতিতে ম্যান্ডেটের সংকট দেখা দেয়। আংশিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সবার ভোটের গুরুত্ব নিশ্চিত হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে বর্তমান প্রশাসন ও ভোটার তালিকা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ ছাড়া সাবেক সচিব মু. আবদুল কাইয়ূম, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী এবং অন্যান্য আলোচকরা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights