সত্যিই কি ইরানের ‘পক্ষে’ কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব
অনলাইন ডেস্ক
সৌদি আরবের নেতৃত্বে পারস্য উপসাগর জুড়ে ইরানের আরব প্রতিদ্বন্দ্বীরা তেহরানে হামলার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তদবির করে আসছে বলে এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এমন এক সময়ে এই দাবি করা হলো যখন ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইরানের আন্দোলন নিয়ে শুরু থেকেই প্রকাশ্যে আরব উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত নীরবই থেকেছে। ইরানজুড়ে যখন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে যে শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, তখনও সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এতে প্রশ্ন উঠেছে সত্যিই কি ইরানের ‘পক্ষে’ কঠোর অবস্থান নিয়েছে কিনা সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরে তেহরানের আরব প্রতিদ্বন্দ্বীরা। এদিকে, ইরান নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবেশী সৌদি আরব। রিয়াদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানোর জন্য তারা নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
বুধবার সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে। সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপের অংশ হবে না। রিয়াদ স্পষ্ট করেছে, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি দিলেও সৌদি আরবের মাটি বা আকাশপথ হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।
সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কর্মীদের এবং নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা জারির পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সামরিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় কিছু ঘটতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই আক্রমণ শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েকদিন ধরেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে সরকারের কড়াকড়ির প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সরাসরি বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানকে খুব বড় মূল্য দিতে হবে এবং মার্কিন সাহায্য খুব শীঘ্রই সেখানে পৌঁছাবে।
