সবার জন্য নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো দুর্বৃত্ত ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও বাড়িঘর, উপাসনালয় বা পরিবারের সদস্যদের ওপর আঘাত হানার সাহস না পায়। সবার জন্য নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই আদর্শকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, অপশাসন ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শনিবার রাজধানীর শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে চিহ্নিত বা বিভাজন করার কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। মানুষের পরিচয় ধর্ম দিয়ে নয়, মানুষ হিসেবে—এটাই একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। একজন মানুষের রক্তের রং যেমন ধর্মভেদে পরিবর্তিত হয় না, তেমনি নাগরিক অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে না। আমরা যদি সবাইকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন ও সম্মান করতে পারি, তাহলেই সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজাসহ কোনো ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা চাওয়ার প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজেকে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপদ মনে করবেন এবং ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি কিংবা ভোটের রাজনীতি করা থেকে সবাইকে সরে আসতে হবে। জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার রাজনীতিই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‌‌‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি বিভাজনের অনুভূতি সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় প্রথমত বাংলাদেশি। ধর্মীয় পরিচয় ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় হলেও নাগরিক পরিচয় ও অধিকার সবার জন্য সমান।

তিনি বলেন, সরকারে থাকলে অনেক সময় ক্ষমতার কারণে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল এবং শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights