সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, বললেন জার্মান চ্যান্সেলর
অনলাইন ডেস্ক
ইরান ঘিরে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল বা নির্দিষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা নেই—এমন মন্তব্য করেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তার এই বক্তব্যের জবাবে পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রকাশ্য এই মতবিরোধের পরও ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো রয়েছে বলে দাবি করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, শুরু থেকেই ইরান যুদ্ধের কৌশলগত দিক নিয়ে তার গভীর সন্দেহ ছিল। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্টভাবে বলতে পারেনি—এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ কোনটি। মের্ৎস দাবি করেন, ইরান প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং আলোচনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘একটি পুরো জাতি ইরানের নেতৃত্বের দ্বারা অপমানিত হচ্ছে’—যার ইঙ্গিত ছিল মার্কিন কূটনৈতিক অবস্থানের দিকে। তিনি বলেন, ইরান হয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আলোচনা করছে, নয়তো কৌশলে আলোচনাই এড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
মের্ৎস আরও জানান, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জার্মানি ও ইউরোপ সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ছে। এতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই কারণেই বার্লিন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মের্ৎসের এই মন্তব্যের পরদিনই তার সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ঠিক আছে—এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তিনি জানেনই না তিনি কী বলছেন।’
তবে এসব বাক্যবিনিময়ের পরও ফ্রিডরিখ মের্ৎস জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো ভালো রয়েছে। নীতিগত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
