সম্পত্তি বিরোধে প্রবাসী তিন ভাইকে হয়রানির অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তিন প্রবাসীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, গত দুই সপ্তাহে তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা বিভিন্ন মামলায় জামিনে থাকলেও নতুন মামলা ও হামলার আশঙ্কায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযোগকারী তিন প্রবাসী হলেন ইতালিপ্রবাসী রানা হোসেন এবং পর্তুগালপ্রবাসী সিরাজুল ইসলাম ও উসমান গনি। তারা সম্পর্কে মামলার বাদী ছাবেরা বেগমের বোনের ছেলে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, নানার রেখে যাওয়া সম্পত্তি পারিবারিকভাবে বণ্টনের পর তারা তাদের তিন খালার অংশ থেকে প্রায় ১৩ শতক জমি কিনেছিলেন। পরে বিদেশে অবস্থানের সুযোগে ছাবেরা বেগম তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে জমি দখল করেন বলে দাবি করেন তারা। দেশে ফিরে জমির দখল পুনরুদ্ধার করার পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

তাদের আরও অভিযোগ, পুলিশ যথাযথ তদন্ত না করেই মামলাগুলো গ্রহণ করছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্রুত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তারা দেশে এসে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। এতে বিদেশে থাকা তাদের কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এদিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে প্রবাসীদের পক্ষ থেকেও হালিমা বেগম ছাবেরা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি, মামলা ও হত্যার হুমকির কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযোগকারীদের পরিবারের মামা এবং খালারা বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে নাছিরসহ তিন ভাই যেন প্রবাসে ফেরত যেতে না পারেন সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে।

এদিকে ছাবেরা বেগম ছাড়া পরিবারের অপর কয়েকজন মামা ও খালা বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকলেও একের পর এক মামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ভুক্তভোগী তিন প্রবাসী বলেন, সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে আইনগতভাবে সমাধান হোক। কিন্তু মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের হয়রানির ফলে দেশে-বিদেশে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারব না।

মামলার বাদী ছাবেরা বেগম ও তার ছেলে পিয়াস বলেন, নানার সম্পত্তি পারিবারিকভাবে বন্টন করে আমাদেরকে বাড়ির সামনের দিকে দেয়। ঘর ভাঙ্গা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাহারাই ঘরের চালা খোলে জায়গা করে দেয়। আমরা কোন অন্যায় করিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং নতুন অভিযোগ আসলে সেটাও আইন অনুযায়ী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights