সরকারকে কঠোর ও সতর্ক হতে হবে
লোটন একরাম
বিএনপি সরকার গঠনের কিছুদিন পর দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্পাদকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তৎকালীন কর্মস্থল ডিবিসির সম্পাদক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিনীত একটি অনুরোধ করেছিলাম। বলেছিলাম, ‘আপনার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। তাঁদের সুযোগ্য সন্তান হিসেবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আপনিও দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। আমরা আশা করব, আপনিও তাঁদের মতো স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করবেন।’ আমার বক্তব্যের মাঝেই থামিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুযোগের সুরে বললেন, ‘আপনি যে দুজনের কথা বললেন, তাঁদের সঙ্গে তো আপনাদের গণমাধ্যম ভালো আচরণ করেননি।’ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে আমি বললাম, ‘আমাদের পূর্বসূরিরা ভালো আচরণ না করলেও আশা করি, আমরা বর্তমান প্রজন্মের সম্পাদকরা আপনার সঙ্গে ভালো আচরণ করব। এমনকি আপনার সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রমগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করব। একই সঙ্গে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও করব। তবে আমরা আশা করব, আপনার সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করলে অতীতের পতিত সরকারের মতো সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের ওপর রুষ্ট হবেন না। বরং সংশ্লিষ্ট সমস্যাটি সমাধান করবেন। এতে সরকার, দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে।’
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের আশান্বিত করে বলেছিলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদ ও লেখনীর সূত্র ধরে অনেক সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপে সেদিন আমরা টেলিভিশন সম্পাদকরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী, সরকারের ছয় মাস মেয়াদে গণমাধ্যম মুক্ত সাংবাদিকতা চর্চা করছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আজ প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক হিসেবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রতি কিছু অনুরোধ করব।
মাত্র ছয় মাস অতিবাহিত করেছে বিএনপি সরকার। অনেক আশা-প্রত্যাশা রয়েছে নতুন এই সরকারের কাছে দেশবাসীর। অবশ্য জনগণের সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের চিত্রেও তা লক্ষণীয়। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বেশ কিছু ইতিবাচক কার্যক্রম প্রশংসিত হয়েছে। সচিবালয়ের কার্যালয়ে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী নিজে অফিস করে সবাইকে সময়মতো অফিস করার বার্তা দেন। এতে সারা দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে হাজির হওয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির ৩১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। ছয় মাসে দেশের সব বড় বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে দুঃশাসনের কবলে পড়া ‘খাদের কিনার’ থেকে দেশকে তুলে সামনে এগিয়ে নিতে সময় প্রয়োজন। অবশ্য নতুন সরকারকে জনগণের নিত্যদিনের অত্যাবশ্যকীয় সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। যদিও সরকার বেশ কিছু সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে; কিন্তু সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে এমন সম্ভাব্য স্যাবোটাজকারীদের বিষয়েও কঠোর অবস্থান ও নিবিড় সতর্কতা প্রয়োজন। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সুুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে এর কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমানে দেশের ভিতর-বাইরের পাশাপাশি প্রশাসনের ভিতরেও রয়েছে সরকারকে সফল না করে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রকারী। আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী পতিত আওয়ামী লীগ এবং সংসদে বিরোধী দল তো স্বাভাবিকভাবেই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টার ত্রুটি করবে না। আবার এর মধ্যেই ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থক পেশাজীবীরা ঐক্যবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন জায়গায় নিজেরা আধিপত্য বিস্তারে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন। এঁদের দ্রুত না রুখলে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করবে বিরোধী সুযোগসন্ধানীরা।
আমরা মনে করি, এহেন ‘কঠিন পরিস্থিতি’ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল সব মন্ত্রী-এমপি এবং নেতাদের দূরদর্শী ও দৃঢ়মনোভাব নিয়ে সামনে-পেছনে চোখ রেখেই প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে। সাধারণ মানুষ চায় দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করুক। চলমান আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট এবং সার সরবরাহে ঘাটতির উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হোক।
দীর্ঘ স্বৈরশাসকের লুটপাট ও টাকা পাচারে বিপর্যস্ত অর্থনীতি, নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতসহ সব সেক্টরেই লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মে ভেঙে পড়েছিল সুশাসন। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মিথ্যা মামলা দিয়ে অত্যাচার ও নির্যাতন করেছিল। ওইসব চিত্র সামনে এলেই দেশের মানবাধিকার ও আইনের শাসনের করুণ অবস্থার কথা মনে পড়ে যায়।
অবশ্য ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে বিপুল বিজয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির দিকে এখন সবার তীক্ষè দৃষ্টি। কী করছে বিএনপি সরকার? কী করছেন মন্ত্রী-এমপি বা দলটির নেতা-কর্মীরা। বিএনপির বিগত শাসনামল, আওয়ামী লীগের শাসনামল এবং সর্বোপরি অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের তুলনা করা শুরু করেছেন অনেকে। সচেতন মানুষ এখনই বিএনপির সফলতা ও ব্যর্থতা মূল্যায়ন করতে চায় না। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো পুরোনো দিনের কথা সহজেই ভুলে যায়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিই তাদের কাছে মুখ্য। যদিও সম্প্রতি বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে এমপিদের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট এবং পর্যাপ্ত সার থাকার পরও সরবরাহের ঘাটতি বিষয়গুলো সম্পর্কে মানুষকে বোঝানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন দেখা যাক তাঁরা মানুষকে কতটা বোঝাতে পারেন।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে কিছুটা উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও সরকারের ছয় মাসে পুলিশের নির্যাতনমূলক কোনো কর্মকাণ্ড, গুমখুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। তবে ২ হাজারের বেশি মানুষ খুন হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ৭৫ জন মারা গেছে। এদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের সদস্য। নানা অপরাধে ২১ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। প্রকাশ্যে হত্যা, গুলি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি কমছে না। সার্বিক নিরাপত্তা না থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। বিনিয়োগ না এলে কর্মসংস্থান হবে না। একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল।
বিবিএসের সর্বশেষ হিসাবে দেশে মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। কর্মসংস্থান কম হলে তারা নানা অপরাধে জড়িয়ে যাবে। যদি কোনো মহল এসব ক্ষেত্রে অরাজকতা ও নাশকতা পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। আইনের আওতায় এনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানো প্রয়োজন। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন না হলে মানবাধিকার বিপন্ন হয়, তা মনে রাখা বাঞ্ছনীয়। আইনের শাসন-ন্যায়বিচার-মানবাধিকারের সৌন্দর্য রাষ্ট্র-সমাজ ও মানুষের জীবনের রক্ষাকবচ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিগত ১৫ বছরে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সরকারের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরাও জ্বালানি খাতে সংকটের জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয় বলে জানাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির মালিক হওয়া ব্যবসায়ীরা বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ সমর্থক। সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত একজন বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির মালিক সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকার বকেয়া টাকা দিলে তাঁরা রিজার্ভ থাকা জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বসতে চান তাঁরা। অতীত সরকারের আমলেও বকেয়া ছিল, কিন্তু টাকা পরিশোধের জন্য উৎপাদন কম করেননি। এখন কেন টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে উৎপাদন বাড়ানোর দাবি আসছে? এখানে স্যাবোটাজের বিষয় রয়েছে কি না গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ছাড়া আমাদের এক দিনও থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু বৈশ্বিক নানা সংকট এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি এখন খুবই ব্যয়বহুল। টাকা দিয়েও এলএনজি মিলছে না। এর পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারকে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনা করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হয়েছে। সরকারকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন তা করা জরুরি। একই সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। বাপেক্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী কেউ সরকারকে ভুল বুঝিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত করছে কি না খতিয়ে দেখা দরকার।
দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও সারসংকট সৃষ্টি করল কারা? এ ক্ষেত্রে ডিলারদেরও কেউ কেউ দায়ী করছেন। সার সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলেও অনেকে তথ্য-উপাত্ত দিচ্ছেন। ডিলারদের বেশির ভাগই নাকি আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগকৃত; রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁদের অনেকেই এখন পলাতক। আবার গণমাধ্যমে এমন খবরও বেরিয়েছে, কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ডিলারদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছেন। তাহলে কৃষককে কেন সঠিক সময়ে সার সরবরাহ করা হচ্ছে না? এর জন্য দায়ী কে বা কারা? তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ইতিহাসে আমরা দেখেছি, কৃষককে ক্ষেপিয়ে সরকার বেকায়দায় পড়েছে। কৃষকের আন্দোলনের মুখে পড়ে অনেক সরকার নাস্তানাবুদ হয়েছে। কাজেই সার নিয়ে সিন্ডিকেট করে রাজনৈতিকভাবে কোনো মহল ষড়যন্ত্র করছে কি না, তা অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অতীতেও বিদ্যুৎ ও সার নিয়ে বিএনপি সরকার বেকায়দায় পড়েছিল। কানসাট, শনিরআখড়া, গাইবান্ধায় বিদ্যুৎ ও সারের দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই আন্দোলন ইস্যু করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছিল। এবারও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারসংকট ইস্যু করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির শঙ্কা-ষড়যন্ত্র একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি ও সারসংকট মোকাবিলায় সরকার হিমশিম খাচ্ছে। অথচ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনে ছয় জেলায় নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে সংঘাত ও সহিংসতায় লিপ্ত হন। পটুয়াখালী, বরিশাল, মুন্সিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। চট্টগ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে এক যুবককে ভারী অস্ত্র বহন করতেও দেখা গেছে। আবার সুপ্রিম কোর্টেও সরকার সমর্থক আইনজীবীদের দুই পক্ষে বিক্ষোভ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। যেখানে দেশের নানা সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় নেতা-কর্মীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে সরকারকে সহায়তা করবেন, সেখানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত-সহিংসতায় লিপ্ত হচ্ছেন। এগুলো বন্ধ করতে হবে। কঠোর হাতে নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। যাতে কোনোভাবেই তাঁদের অপকর্মের দায়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়। শুধু বহিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, গুরুতর অপরাধ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার নজির স্থাপন করে জনগণের আস্থা বাড়াতে হবে। যেমন রাজধানীতে সড়কে রং সাইডে গাড়ি চালানোর অপরাধে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর ড্রাইভারের নামে মামলা হয়েছে। জনগণ এমন দৃষ্টান্ত দেখতে চায়। আইন সবার জন্য সমান-এটিই হতে হবে আইনের শাসনের ভিত্তি।
