“সাংবাদিকতা ও আমাদের দায়বোধ”
হাসিনা মরিয়ম
কিছুদিন ধরে একটা খবর বারবার মিডিয়াতে ‘আসছে ছাগল কান্ড”, একজন সরকারি কর্মকর্তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলের কোরবানীর ছাগল কিনা প্রসঙ্গে , পারিবারিকভাবে কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় আছেন ওনাদের পরিবার , সেই কর্মকর্তার প্রথম স্ত্রী সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান , সংগত কারণেই সাংবাদিকরা নিউজ কাভার করতে চাইবে, সেদিন উনি উপজেলা অফিস থেকে বের হয়ে ওনার গাড়িতে উঠার সময়
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,,,,বড় বড় সব সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এসেছি , এখন আর কোন সমস্যা নেই , আর কোন কিছু লেখা হবেনা,
এখন প্রশ্ন উঠেছে আসলেই কি উনি সাংবাদিকদের কিনেছেন? আমরা জানি কিছু দূর্নীতিগ্রস্থ সাংবাদিকদের জন্য আমরা অনেক সময় অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হই ,
যারা সমাজের তৃণমূল থেকে সমাজের উপর পর্যন্ত
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করবে সত্য ও ন্যায় এর পথে থেকে আজ তা আমরা দেখছি না,কিছু সাংবাদিক তো ক্ষমতাসীনদের কাছে নিজেদের মূল্যবান বিবেক বিক্রি করে নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন তা আজ আমরা সকলেই জানি, এর বড় উদাহরণ মতিউর সাহেবের প্রথম স্ত্রীর বয়ান, “বড় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এসেছি আর কোন সমস্যা হবে না,
আসলে সাংবাদিকতা কি , এরা কি আর দশজন সাধারণ মানুষের মত সমাজে যা খুশি তাই করতে পারে? উত্তর হলো না ,,, সংবাদ যারা সংগ্রহ করেন তারা জানেন কতোটা ঝুঁকি নিয়ে তিনি এই পেশায় আছেন, জীবনের পরোয়া না করে তিনি ছুটে বেড়ান সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহে, সাংবাদিকদের জন্যই মানুষ সত্যটা জানতে পারছে, ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সমস্ত লোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখে সংবাদ সংগ্রহ করেন তারা, সত্য ও মিথ্যা তেল ও জলের মত,কখনও মিশে না,অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীনদের চাপে পড়ে হয়তো কেউ কেউ তার লক্ষ থেকে বিচ্যুত হন, কিন্তু সেটা কিছু সময়ের জন্য, কিন্তু এটাও সত্য যে আজকাল ক্ষমতাসীনদের সাথে কিছু হলুদ সাংবাদিক নামধারী মিশে সাংবাদিক পেশাটাকেই বিতর্কিত করে তুলেছে, তা না হলে আজ মতিউরের প্রথম স্ত্রী এভাবে দাম্ভিকতার সাথে বলতে পারেনা যে বড় বড় সাংবাদিক ম্যানেজ করে ফেলেছি, এটা কতটা লজ্জার আমাদের জন্য যে সামান্য সুযোগ সুবিধার জন্য আমরা আমাদের বিবেক বিক্রি করে ফেলেছি, কোথায় পলিটিশিয়ানরা সাংবাদিকদের ভয় পাবে অথচ এখন সাংবাদিকরা পলিটিশিয়ানদের পিছে ঘোরে, আজ যদি ওরা ওদের জায়গায় থেকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করতো তাহলে ঘুণে ধরা এই সমাজ ব্যবস্থা অনেক আগেই ঠিক হয়ে যেত, আজ আমার দেশের এই অব্যাবস্থাপনার জন্য পলিটিশিয়ানদের পাশাপাশি আমাদের সাংবাদিকরা ও দায়ী, আমি সব সাংবাদিকদের বলছি না, আমি তাদেরকে বলছি যাদেরকে মতিউরের বউদের মতো মহিলারা কিনে রাখে, এই গুটিকয়েক সাংবাদিক নামধারী অর্থলোভীদের জন্য আজ সব সাংবাদিকদের দিকে সমাজ আঙ্গুল তুলছে, এই অর্থলোভীদের জন্য সাধারণ মানুষ এখন আর কোন সাংবাদিকদের বিশ্বাস করতে পারছে না,অথচ এই পচনশীল ঘূনেধরা সমাজকে যদি কেউ ঠিক করতে পারে তা কেবল সংবাদ মাধ্যমই পারে, দেশ তথা সমাজের যে অনিয়ম চলছে তার একমাত্র সাংবাদিকরা তাদের ক্ষূরধার লেখনীর মাধ্যমে ঠিক করতে পারে,আজ সামান্য টাকার লোভ এই দূর্নীতিগ্রস্থদের কাছে নিজের তলোয়ার সম কলম বিক্রি করতে এতোটুকু গ্লানি হচ্ছে না,আজ আমার দেশ নানা সমস্যায় জর্জরিত, অথচ যারা ছিল আমাদের শেষ ভরসাস্থল তাদের উপর এখন সাধারণ মানুষের কোন আস্থা নেই, তারপরও মানুষ আশাবাদী, আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে, কারণ মিথ্যা ও লোভ যতই শক্তিশালী হোক, পরাজয় তার সত্যের কছেই হবে,এদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াবে,সমস্ত লুটেরা আর লোভীদের এই পবিত্র ভূমিতে কোন জায়গা নেই, এই দেশের জনগণ কড়ায় গন্ডায় এই অত্যাচারের হিসাব বুঝিয়ে দিবে। ।
