সিলেটে জয়ের ছক কষছে বাংলাদেশ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
তাওহিদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ইনিংসে সিলেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ১৩৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর দলীয় সংগ্রহ ৩৮৬-তে নিয়ে গেছেন হৃদয়। বাংলাদেশ দল লিড পায় ৩০ রানের। দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান করে। এখনো ২৩ রানে এগিয়ে আছে টাইগাররা। গতকাল হৃদয়ের সঙ্গে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের লড়াইও ম্যাচে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য প্রতিপক্ষের ইনিংস দ্রুত শেষ করে চতুর্থ দিনে রান তাড়া করার মতো অবস্থানে যাওয়া। তবে পিচ এখনো ভালো থাকায় কত রান লক্ষ্য হিসেবে স্বস্তিদায়ক হবে, তা নিয়ে আগেভাগে সিদ্ধান্ত নিতে চান না হেড কোচ ফিল সিমন্স।
সিলেটে জয়ের ছক কষছে বাংলাদেশগতকাল তাওহিদ হৃদয়ের পাশাপাশি দারুণ লড়াই করেছেন টেল এন্ডার ব্যাটাররা। তাইজুল ৫৬ বল খেলে করেছেন ২২ রান। তাসকিন ২৯ বল খেলে করেছেন ১২ রান। তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেট জুটিতে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। তিনি ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। আগে সর্বোচ্চ ছিল মুশফিকুর রহিমের (২১৭*)। বাংলাদেশের দুর্দান্ত এই কামব্যাক ছিল মুগ্ধ করার মতোই। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি বাংলাদেশের। জয়ের জন্য এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। মিরপুর টেস্টে পরাজয়ের পর সিলেটে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের। সিরিজ অন্তত ড্র করতে হলে জিততেই হবে। ব্যাটিংয়ে অন্য সবার ভুল ঢেকে দিয়েছেন হৃদয়। এবার বোলাররা নিজেদের কাজ ঠিকমতো করতে পারলেই আসবে কাক্সিক্ষত জয়ের সুযোগ।
তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, হৃদয় দলের চাওয়া অনুযায়ী সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এটাই চেয়েছিলাম-তারা যেন সুযোগ লুফে নেয় এবং সেটার সঠিক ব্যবহার করে। মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ব্যাটারের। দলের জন্য যা প্রয়োজন, তাকে সেটাই করতে হবে। আজ হৃদয় ঠিক সেই মুহূর্তে দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল।’
হৃদয়ের ইনিংসকে অসাধারণ উল্লেখ করে কোচ বলেন, ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও তিনি বাউন্ডারি ও ছক্কা বের করেছেন। কোন শট কখন খেলতে হবে, কখন শেষ দিকের ব্যাটারদের স্ট্রাইক দিতে হবে-সবকিছুই ভালোভাবে বুঝেছে হৃদয়। সিমন্সের মতে, ঢাকা টেস্টে কয়েকটি ভুল শট খেলার কারণে হৃদয়কে বিচার করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘সে খুব দ্রুত পরিপক্ব হয়ে উঠছে। আজ আমরা সেটাই দেখলাম।’
বাংলাদেশের পরের পরিকল্পনা নির্ভর করছে চতুর্থ দিনের সকালে পিচের অবস্থা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের ওপর। সিমন্স বলেন, ‘পিচ এখনো ভালোই মনে হচ্ছে। সকালে তারা কোন রোলার ব্যবহার করছে এবং বাকি পরিস্থিতি কেমন, তা দেখে আমরা আরও ভালো ধারণা পাব।’ লক্ষ্য তাড়া করতে কত রান স্বস্তিদায়ক হবে, তা নিয়েও এখনই কিছু বলতে চাননি কোচ। ‘এখানে উইকেট এখনো ভালো আছে। দেখা যাক সকালে তাদের কাছ থেকে আমরা কী পাই। তারপর আমরা বুঝতে পারব, কোন লক্ষ্যের দিকে যেতে পারি।’ এখনই পরিকল্পনা ফাঁস করতে চান না সিমন্স। তবে জয়ের লক্ষ্যেই ছুটতে চান তিনি।
বাংলাদেশের স্পিনারদের কাছ থেকে আরও ভালো বোলিং প্রত্যাশা করছেন সিমন্স। তাঁর মতে, ঢাকা ও সিলেট-দুই টেস্টের প্রথম ইনিংসেই স্পিনাররা নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারেননি। ‘আমার মনে হয় স্পিনাররা আরও ভালো বল করতে পারত। আশা করি আগামীকাল (আজ) তারা দেখাবে, আসলে কী করতে পারে।’ শেষবার সিলেটে পাকিস্তানকে শেষ দিনে অলআউট করার উদাহরণও টেনেছেন তিনি।
বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা এখন নির্ভর করছে বোলারদের ওপর। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত থামিয়ে পিচের ভালো ব্যাটিং-সহায়ক চরিত্র কাজে লাগাতে পারলে জয়ের সুযোগ তৈরি হবে। তবে কোচের বক্তব্য স্পষ্ট-আগে প্রতিপক্ষের ইনিংস, তারপর লক্ষ্য নির্ধারণ।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহ-অধিনায়ক জোমেল ওয়ারিকান বলেছেন, ‘সবকিছু আমাদের পক্ষে যাচ্ছিল। কিন্তু হৃদয় ভালো ব্যাটিং করেছে। এখন পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখতে হবে, আমরা কোথায় আরও ভালো করতে পারতাম।’
