সেই বাঘিনির খোঁজ মেলেনি
শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনে গত ৩ জানুয়ারি চোরা শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়ে একটি বাঘিনি। যখন উদ্ধার করা হয় তখন বাঘিনীটির সামনের বাঁ-পায়ে গুরুতর ক্ষত দেখা যায়। এ অবস্থায় বন বিভাগ ফাঁদ থেকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছয় মাসের চিকিৎসা ও পরিচর্যায় রাখা হয়। এই সময়ে সুস্থ হয়ে ওঠে বাঘিনি। এরপর ১২ জুলাই উদ্ধার হওয়া স্থানের কাছে আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে কোনো প্রকার ট্র্যাকিং ডিভাইস পরানো ছাড়াই অবমুক্ত করা হয় বাঘিনীকে। এই প্রথমবার কোনো বাঘকে চিকিৎসা শেষে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। তবে অবমুক্তির পর সে সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, খাঁচা থেকে বের হয়ে সুন্দরবনে লাফিয়ে পড়ে বাঘিনীটি ডানে-বাঁয়ে হেলে পড়ে। এমনকি শক্তভাবে দাঁড়াতেও কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল তার। বারবার ফিরে তাকাচ্ছিল পেছনে। কিন্তু অবমুক্তির তিন মাসের মধ্যে ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার একটিতেও ছবি না পাওয়ায় পরিবেশবাদীদের মধ্যে বাঘিনীটির বেঁচে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে বসানো ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরা তুলে এনেছে। অবমুক্তির পর বাঘিনীটির ভাগ্যে কি ঘটেছে? শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় মারা গেছে, বেঁচে আছে, নাকি আবারও চোরা শিকারিদের কবলে পড়ে বাইরে পাচার হয়ে গেছে? বন বিভাগ বাঘিনীটিকে কোনো ট্র্যাকিং ডিভাইস না পরিয়ে সুন্দরবনে অবমুক্ত করায় স্বাভাবিকভাবে এমন সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে বন বিভাগ জোর দিয়ে বলছে, বাঘিনীটি বেঁচে আছে। ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী পরিবেশবিদ নূর আলম সেখ বলেন, অবমুক্তির তিন মাসের মধ্যে ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার একটিতেও বাঘিনীটির ছবি না পাওয়া সত্যিই ভাবনার বিষয়। বাঘিনীটি অবমুক্তির পর দেড় শ মিটার পথে তার পায়ের ছাপ দেখা গেলেও আর পায়ের ছাপ দেখা যায়নি কেন? বিষয়টি বন বিভাগের খুলে বলতে হবে। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘিনীটি অবমুক্তির পর দেড় শ মিটার পথে তার পায়ের ছাপ দেখা যায়। চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করার পর অবমুক্তির সময়ে কিছুটা দুর্বল থাকলেও পরে বাঘিনীটির স্পষ্ট পায়ের ছাপই বলে দেয় তার অবস্থা স্বাভাবিকই ছিল। তিনি বলেন, বনরক্ষীরা তিন মাস ধরে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে একাধিকবার মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে পায়ে হেঁটে অনুসন্ধান চালিয়েও বাঘ মারা যাওয়ার কোনো আলামত পায়নি। আগামী বছরের শুরুতে গোটা সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘশুমারির সময়ে এই বাঘিনীটির সন্ধান মিলবে বলে আশাবাদী সুন্দরবন বিভাগের এই ডিএফও।
