সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে ধরা পড়ল ১০ লাখ টাকার কোরাল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন চ্যানেলে ধরা পড়েছে ৬৮৭টি লাল কোরাল। এসব মাছ বিক্রি হয়েছে ১০ লাখ টাকায়। বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়ার ট্রলারে এসব মাছ ধরা পড়ে।

ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সাতজন জেলে নিয়ে তাঁর ট্রলারটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের মৌলভির শীল এলাকায় যায়। সেখানে জেলেরা জাল ফেলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে জালে ধরা পড়ে বিপুল লাল কোরাল মাছ। প্রতিটি মাছের ওজন দেড় থেকে চার কেজি। গণনা করে পাওয়া গেল ৬৮৭টি। এরপর মাছ নিয়ে সন্ধ্যার আগে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিঘাটে ট্রলারটি ফিরে আসে।

ট্রলারের জেলেরা জানান, ট্রলারটিতে একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাছ ধরে ট্রলারটি শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিঘাটে পৌঁছানোর পর মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। প্রথমে মাছগুলোর দাম ১২ লাখ টাকা হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয় ১০ লাখ টাকায়।

জাকারিয়া জানান, জেলেদের জন্য ১০টি মাছ রেখে ৬৭৭টি কোরাল মাছ বিক্রির জন্য ১২ লাখ টাকা দাম চাওয়া হয়। রহিম উল্লাহ নামের এক মাছ ব্যবসায়ী ১০ লাখ টাকায় লাল কোরালগুলো কিনে নেন। প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ৫৭৫ টাকা। কোরাল মাছগুলো ইতিমধ্যেই কক্সবাজার ও ঢাকায় সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান মাছ ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ (৪৫)।

তিনি বলেন, হাটবাজারে এখন সামুদ্রিক মাছের তীব্র সংকট চলছে। এ ক্ষেত্রে লাল কোরালের চাহিদা অনেক। কক্সবাজার শহরের হোটেল এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাজারে কোরালের চাহিদা বেশি।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে অর্ধেক কোরাল কক্সবাজার এবং বাকি অর্ধেক কোরাল ঢাকায় সরবরাহ করা হয়েছে। সেখানে প্রতি কেজি ৭০০-৭৫০ টাকা দামে বিক্রি হবে।

শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, লাল কোরাল গভীর সমুদ্রের মাছ এবং সেন্টমার্টিন চ্যানেলে এ ধরনের মাছ তুলনামূলক বেশি ধরা পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে সাগরে মাছ কম পাওয়া যাচ্ছিল। বুধবার থেকে আবার ভালো মাছ ধরা পড়ছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, লাল কোরাল গভীর সাগরে পাওয়া যায়। শীতকালে লাল কোরাল ঝাঁক বেঁধে সেন্ট মার্টিনের প্রবালের স্তূপে বিচরণ করে। পাথর ও প্রবালের কারণে সেখানে জাল ফেলা কঠিন। দ্বীপের জেলেরা সেখানে বড়শি দিয়ে বড় কোরাল ধরেন।

টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা উম্মূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, ‘লাল কোরাল একটি সুস্বাদু ও মূল্যবান মাছ। সাধারণত এক থেকে নয় কেজি ওজনের এই মাছ বঙ্গোপসাগরের গভীর জলে পাওয়া যায়। এ কোরাল সুস্বাদু মাছ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights