সেলিমের এক রুমের সংগ্রহশালা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কলেজ পাড়ার ৭৩ বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন সেলিম। স্কুলজীবন থেকেই ডাকটিকেট, মুদ্রা, অটোগ্রাফ সংগ্রহ করতেন। সেই যে পথচলা শুরু হয়েছিল, আজও তা চলছে।
তার সংগ্রহে এখন আছে ৩৮ ভাষার মুদ্রিত পবিত্র কোরআন শরীফ, মাদার তেরেসা, নেলসন ম্যান্ডেলা, উডারল্যান্ড, রাদিচে ও কফি আনানসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুণীব্যক্তির অটোগ্রাফ ও পুরানো টেলিফোনসেট, মুদ্রা, বিভিন্ন দেশের দিয়াশালাই (ম্যাচ বক্স)। তিনি সংগ্রহীত জিনিসপত্র দিয়ে গড়ে তুলতে চান একটি সংগ্রহশালা, যেন পরবর্তী প্রজন্ম পরিচিতি হতে পারে পুরানো এই ঐতিহ্যের সঙ্গে।
শহরের কলেজ পাড়ায় তার বাসভবনে সরেজমিনে দেয়া যায়, একটি রুমে এই সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন। টেলিফোন ভুবনে একদিন, কক্ষটার মাঝ বরাবর টেবিল শোকেস, দেয়াল জুড়ে রয়েছে ডিসপ্লে বোর্ড এবং লম্বা টেবিল। এসব শোকেস, টেবিল এবং ডিসপ্লে বোর্ডে সাজানো নানা রকম এবং নানান সাইজের ল্যান্ড লাইন ও মোবাইল টেলিফোন সেটগুলো রাখা আছে।
সংগ্রহ সর্ম্পকে ইসমাইল হোসেন সেলিম জানান, টেলিফোন সেটগুলো ১৯২০ থেকে ১৯৯০ সাল সময়ের। এর মধ্যে রয়েছে প্রিন্স, ক্যান্ডেলস্টিক, মেরিন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, রোটারি, মাইনিং, পিবিএক্স সহ বিভিন্ন ধরণের টেলিফোন। টেলিফোনগুলো বিভিন্ন দেশের তৈরি।
বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস)-এর তৈরি টেলিফোন এবং পাকিস্তান, ভারত, মালয়েশিয়া, পোল্যান্ড, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, জাপান, জার্মানি, চায়না, কোরিয়া, হাঙ্গেরি সহ বিভিন্ন দেশের। রয়েছে প্রথম সময়ের মোবাইল ফোন। বর্তমানে তার সংগ্রহে রয়েছে দুই শতাধিক টেলিফোন সেট।
ইসমাইল হোসেন সেলিমের সংগ্রহ শুরু স্কুলজীবন থেকেই। প্রথমে ডাকটিকেট এরপর অটোগ্রাফ, মুদ্রা, এ্যান্টিকস থেকে যখন যা পেয়েছেন সংগ্রহ করেছেন। এখন তার মূল সংগ্রহ টেলিফোন, দিয়াশলাই এবং পবিত্র কোরআন। তার সংগ্রহে আছে নানা ধরণের ১০৯ দেশের এবং বিভিন্ন সাইজের ও বিভিন্ন আকৃতির দিয়াশলাই। সংগ্রহে আছে পোস্টার কোরআনসহ ৩৮ ভাষার পবিত্র কোরআন।
এ্যান্টিক্স এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৮৯৮ সালের এডিসন ফোনোগ্রাফের অরিজিনাল সিলিন্ডার রেকর্ড, ফোনোগ্রাফ রেপ্লিকা, ১৯৩৪ সালের ইংল্যান্ডের তৈরি এবং ১৯৪২ সালের এইচএমভি গ্রামোফোন, ১৯৪০ সালের ৮মিমি সাইলেন্ট মুভি প্রজেক্টর, ১৯৬০ সালের জার্মানের তৈরি রীল টু রীল টেপ রেকর্ডার বিভিন্ন দেশের তৈরি হ্যাজাক, হারিকেন সহ নানা সামগ্রী।
তার সংগ্রহে রয়েছে মাদার তেরেসা, নেলসন ম্যান্ডেলা, উডারল্যান্ড, রাদিচে, কফি আনান, বুট্রোস ঘালি, এডমন্ড হিলারি, ব্রজেন দাস, সুবীর সেন সহ দেশ বিদেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের অটোগ্রাফ। ইসমাইল হোসেন সেলিম সংগ্রাহক এর বাইরে একজন শিল্পী, লেখক এবং ক্যালিগ্রাফার।
২০১৯ সালে তার একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় যা উদ্বেধন করেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডস-এর রেকর্ডধারী বাংলাদেশের স্ট্রীট আর্ট এর পথিকৃৎ ডেনমার্ক প্রবাসী বিশিষ্ট ভাস্কর ও শিল্পী আর এ কাজল। তার প্রকাশনা সংখ্যা পাঁচ। সেলিমের জন্ম ১৯৫৫ সালে টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ায়। তিনি ২০১৩ সালে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নেন। তার অবসর সময়ও কাটছে সংগ্রহশালার সমৃদ্ধির মধ্যদিয়ে।
কীভাবে এই সংগ্রহ? উত্তরে জানান, কিছু বিনিময়ের মাধ্যমে, কিছু অনলাইন এবং বিভিন্নজনের কাছ থেকে ক্রয় এবং কিছু আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আনা। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় কেন এই সংগ্রহ এবং সংগ্রহ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে।
ইসমাইল হোসেন সেলিম বলেন, সংগ্রহের আনন্দ অপরিসীম। শুধু আনন্দই নয় এর মাধ্যমে জানার যে ব্যাপ্তি ঘটে যা অন্য কোনো বিনোদন মাধ্যমে সম্ভব নয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ইচ্ছা একটি সংগ্রহশালা স্থাপন করার। যার মাধ্যমে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের পূর্বসূরিদের ব্যবহার সামগ্রী এবং জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে পারবে এবং সংগ্রহে উৎসাহিত হবে।
