হকিতে স্বস্তির হাওয়া
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঝিমিয়ে পড়া হকিতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নতুন অ্যাডহক কমিটি ফেডারেশনে দায়িত্ব নেওয়ার পর হকির বন্ধ দুয়ার খুলতে শুরু করেছে। এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে এখন চলছে প্রস্তুতি। সেখানেও এসেছে নতুনত্ব। নতুন সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেকের উদ্যোগে বয়স বেশি বলে উপেক্ষিত খেলোয়াড়দেরও ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত অ্যাডহক কমিটি পারফরম্যান্স থাকার পরও কোনো পরীক্ষা না নিয়ে বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের বাইরে রেখে তাদের ক্যারিয়ার হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। নতুন কমিটি এশিয়ান গেমসের ক্যাম্পে ডেকে তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দিয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক বার বার বলছেন, দেশের হকি এগিয়ে নিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। এখানে সবার সহযোগিতা দরকার। বিস্ময় ব্যাপার হচ্ছে হকি এগিয়ে নিতে প্রধান কাজই ছিল এ খেলাকে মাঠে রাখা। অথচ লিগগুলোই অন্ধকারে বন্দি। প্রায় চার বছর ধরে দেখা নেই ঘরোয়া হকির সর্বোচ্চ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এ আসরই ছিল খেলোয়াড়দের আয়ের প্রধান উৎস। প্রথম বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগেরও কোনো খোঁজ নেই। লিগ না হলে খেলোয়াড়রা অর্থ বা নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে বঞ্চিত হবেন।
নতুন কমিটি এসেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আগের অ্যাডহক কমিটি নিজেদের ব্যর্থতা লুকিয়ে রাখতে বারবার বলত ক্লাবগুলো খেলতে না চাইলে আমরা লিগ করব কীভাবে? অথচ বাস্তবে তারা কোনো ক্লাবের সহযোগিতাই চায়নি। বর্তমান কমিটি জানে লিগ মাঠে নামাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার? ক্লাবের ভূমিকাই এখানে প্রধান। তাই তো সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক চেয়ারে বসে কোনো বক্তব্য না দিয়ে ক্লাবগুলোয় ছুটে যাচ্ছেন। গতকাল যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্সকে নিয়ে ইশতিয়াক সাদেক যান ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান ক্লাবে।
মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলাপ করেন। ইশতিয়াক সাদেক প্রিমিয়ার লিগ মাঠে নামাতে মোহামেডানের সহযোগিতা চান। লোকমান হোসেন শুধু লিগ নয়, হকির যেকোনো কাজে ইশতিয়াকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। শুধু মোহামেডান নয় পর্যায়ক্রমে ইশতিয়াক সাদেক হকিতে অংশ নেওয়া অন্য ক্লাবগুলোতেও পরিদর্শনে যাবেন। তিনি চাচ্ছেন হকির উন্নয়নে সবার সহযোগিতা। ব্যর্থতা ঢাকতে মুখে বলবে কেউ আসে না আর কাজ করবে না। এমন কাজে বিশ্বাসী নয় বর্তমান কমিটি। তাই তো ঝিমিয়ে পড়া হকিতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
