হঠাৎ কৌশল বদল ইরানের, কী হচ্ছে ইসলামাবাদে
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই গতকাল শুক্রবার রাতে দেশটিতে যান তিনি। আট সপ্তাহের যুদ্ধের পর এই সফরকে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদে পৌঁছেই সেরেনা হোটেলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আরাঘচি। এই হোটেলেই আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা হয়েছিল। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সমর্থন জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি জানান, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তিনি পাকিস্তান, ওমান, রাশিয়া সফর করছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফরে যুদ্ধ বন্ধের সর্বশেষ প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠক হবে না। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে এলেও তাঁদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। পাকিস্তানের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরান তাদের অবস্থান পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তুলে ধরবে এবং সেই বার্তাই মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছাবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো পূরণের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিতে পারে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।
আলোচনার অগ্রগতি থাকলেও উত্তেজনা কমেনি সমুদ্রপথে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরান অভিমুখী একটি জাহাজকে গতিরোধ করেছে তাদের ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা।
মার্কিন হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে দুই দেশই অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, সাম্প্রতিক দিনে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে এবং আরও ইতিবাচক ফলের আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় যোগ দিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
এদিকে সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি লজিস্টিক ও নিরাপত্তা দল আগেই ইসলামাবাদে অবস্থান করছে বলে পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের সামনে একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হবে।
সূত্র : রয়টার্স
