হঠাৎ পানি, ছুটছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ানের চরখিদিরপুরে পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। গবাদি পশু ও শেষ সম্বলটুকু নিয়ে তাই সেখানকার মানুষ ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা -বাংলাদেশ প্রতিদিন

উজানের ঢলে বেড়েছে পদ্মার পানি। সপ্তাহখানেক ধরে উপচে পড়া পানিতে প্লাবিত রাজশাহীর পবা উপজেলার চর খিদিরপুর ও খানপুর। দুই চরে পানিবন্দি তিন শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। বসতঘর তলিয়ে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারসংকট। বেড়েছে সাপের উপদ্রবও। একই সঙ্গে চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। এ অবস্থায় গতকাল থেকে স্বাস্থ্যসেবা ও ত্রাণসহায়তা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আরও পাঁচ দিন বাড়বে পদ্মার পানি। বন্যা প্লাবিত চর খিদিরপুরের বাসিন্দা জানান, রাত নামলেই আতঙ্ক বাড়ে। চারদিকে থইথই পানি। ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, উঠান ও চলাচলের পথ। পানির মধ্যে রাত কাটাতে গিয়ে সাপের ভয়, সঙ্গে লাল পিঁপড়ার কামড়। ঘুম যেন এখন তাদের কাছে বিলাসিতা। শেষ পর্যন্ত জীবন ও গবাদিপশু বাঁচাতে নৌকায় করে ঘর ছেড়ে পদ্মার ডগার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন। তার মতো চর খিদিরপুর ও মধ্যচরের শত শত মানুষ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।

কৃষক বজলুর রশিদ বলেন, এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। আট দিন ধরে চর খিদিরপুর মধ্যচরের প্রায় ৩০০ পরিবার ও হাজার হাজার গবাদিপশু পানিবন্দি। জীবন বাঁচাতে অধিকাংশ মানুষ গরু নিয়ে পদ্মার10-09-2026 এপারে চলে এসেছেন। তিনিও পরিবার-পরিজন, গরু ও আসবাবপত্র নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন। চর খিদিরপুরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত সাত দিন ধরে পানির কারণে খুব কষ্টে আছি।’ কৃষক রেজাউল করিমের বাড়িও চর খিদিরপুর মধ্যচরে। এক সপ্তাহ ধরে পানিতে তার ঘরবাড়ি ডুবে আছে। সাপের ভয় আর লাল পিঁপড়ার কামড়ে রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী, ছেলে ও গরু নিয়ে নৌকায় করে ডগার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। রেজাউল করিম বলেন, ‘পানিতে আর থাকতে পারছিলাম না। তাই নৌকায় করে বউ, ছেলে আর গরু নিয়ে ডগার ঘাটে চলে এসেছি। পানি না নামা পর্যন্ত এখানেই থাকব।’

এদিকে টানা প্রায় এক সপ্তাহ পানিবন্দি থাকার পর গতকাল এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিন দুপুর ১২টার দিকে পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ডগার ঘাট এলাকায় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, চর খিদিরপুর ও মধ্যচরে পানি ওঠায় প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য আছে। অন্যদিকে গতকাল সকাল ৯টায় পদ্মার বোয়ালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ২০ মিটার নিচে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, আরও অন্তত পাঁচ দিন নদীটির পানি বাড়বে। তবে বিপদের আশঙ্কা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights