হরমুজে দীর্ঘ অচলাবস্থা ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে উপসাগরীয় অর্থনীতিকে
অনলাইন ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে বেশ শক্তিশালী। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো দেশগুলোর বিশাল আর্থিক রিজার্ভ রয়েছে। কিন্তু তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লেও, সেই পণ্যগুলো বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জাহাজ চলাচলের সুব্যবস্থা প্রয়োজন। আর বর্তমান পরিস্থিতি সেখানেই বড় প্রভাব ফেলছে।
গোল্ডম্যান স্যাকস-এর তথ্যমতে, তেল পরিবহন করতে না পারার কারণে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের রাষ্ট্রগুলো প্রতিদিন আনুমানিক ৭০০ মিলিয়ন ডলার লোকসান করছে। যদি এই অচলাবস্থা সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দীর্ঘায়িত হয়, তবে এর প্রভাব কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বজুড়ে অনুভূত হবে। এছাড়া এখানে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্জিত সুনামের প্রশ্নও জড়িত। অর্থাৎ এই অঞ্চলটি যে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল জায়গা এবং এখানে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে, সেই ধারণাটি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
জিসিসি ভুক্ত দেশগুলো বর্তমান পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই প্রণালীটি যত দ্রুত সম্ভব সচল করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে তাদের অর্থনীতি এবং জনজীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা।
