হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখতে স্পিড বোটেই ভরসা ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র ঘনিষ্ঠ দৈনিক হামশাহরি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার কৌশল হিসেবে ইরান প্রধানত তাদের স্পিডবোট বহরের ওপর নির্ভর করছে। প্রতিবেদনে এই বোটগুলোকে ইরানি নৌবাহিনীর মূল হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে। ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ প্রয়োগের মাধ্যমে এগুলো মার্কিন বাহিনীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দ্রুতগামী নৌকা, সামুদ্রিক মাইন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সমন্বিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রণালীটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে তেহরান।

এরই মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরে দেখা গেছে ভিন্ন সুর। আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রথম প্রধান এবং সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন আলাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মধ্যেই ইরানের প্রকৃত বিজয় নিহিত। গত বছরের জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাথে ইরানের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘায়িত যুদ্ধ কখনোই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য শুভ হতে পারে না। তবে কঠিনপন্থীরা ওয়াশিংটনের সাথে সব ধরনের আলোচনা বন্ধের দাবি জানালেও আলাইয়ের মতো অভিজ্ঞ সামরিক ব্যক্তিত্বরা রক্তক্ষয় বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, বিদেশে অবস্থানরত সরকারবিরোধী ইরানিদের ওপর চাপ বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। বিবিসি পার্সিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলারুশে অধ্যয়নরত ইরানি শিক্ষার্থীদের সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে জিজ্ঞাসাবাদ, আটক ও বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মিনস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস বেলারুশীয় নিরাপত্তা সংস্থার সাথে আঁতাত করে দেশটিতে অবস্থানরত সমালোচকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর পর উল্লাস প্রকাশ করে পোস্ট দেওয়ায় গ্রেফতার ও দীর্ঘ সাজা ভোগের পর দেশচ্যুত এক শিক্ষার্থীর ঘটনা তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে। শুধু বেলারুশ নয়, আর্মেনিয়ার মতো অন্যান্য দেশ থেকেও ইরানি দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে নাগরিকদের ওপর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের একই ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে, গত ২ মার্চ কাতারে অবস্থিত মার্কিন আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে চালানো একটি হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমে। সেই অভিযানে নিহত অন্যতম পাইলট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমীকে। সিরাজ সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নকারী দুটি এসইউ-টুয়েন্টিফোর সুখৈ বোমারু বিমান সফলভাবে মিশন শেষ করে ইরানে ফেরার পথে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ধ্বংস হয়। ইতিপূর্বে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে এফ-ফাইভ ফাইটার জেট দিয়ে চালানো ইরানি হামলার খবর প্রচার করলেও এই সুনির্দিষ্ট অভিযানটি এতদিন গোপনই রেখেছিল দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights