হাইড্রেশন বিরতিতে হারাচ্ছে ফুটবলের ছন্দ

অনলাইন ডেস্ক

উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধেই বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি চালু করেছে ফিফা। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ফুটবলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, খেলা শুরু হলে প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে নিরবচ্ছিন্নভাবে খেলা চলতে থাকে। কোচ বা সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের কারণে খেলার ছন্দ থেমে যায় না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভিএআর, বাড়তি যোগ করা সময় এবং এখন হাইড্রেশন বিরতির কারণে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি বদলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ফিফার দাবি, বাড়তে থাকা তাপমাত্রায় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। তবে অনেকের মতে, এর ফলে ম্যাচের মাঝপথেই কোচরা খেলোয়াড়দের নতুন কৌশল বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে ম্যাচের গতি থেমে যায় এবং প্রতিপক্ষের ছন্দও ভেঙে যেতে পারে।

এছাড়া এই বিরতিগুলো সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করছে। খেলা থামার নির্দিষ্ট সময় পাওয়ায় তারা স্পন্সর বার্তা ও বিজ্ঞাপন দেখাতে পারছে। মার্কিন ক্রীড়া বিশ্লেষক মাইকেল জনসন রয়টার্সকে বলেন, এই বিরতিতে দেখানো বিজ্ঞাপনের মূল্য ভবিষ্যতে সুপার বোলের বিজ্ঞাপনের মতোই ৭ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অনেক সমর্থক এই বিরতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেলের দল কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর হাইড্রেশন বিরতিকে কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত জয় পায়।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, শুধু গরমের কারণে নয়, সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই প্রতিটি ম্যাচে হাইড্রেশন বিরতি রাখা হয়েছে। এতে খেলোয়াড়রা কিছুটা বিশ্রাম পান এবং কোচরাও নির্দিষ্ট সময়ে দলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেন।

তবে সবাই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে নন। সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার স্ট্যান কোলিমোর বলেন, ‘এই বিরতিগুলো ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করে। হাজারো ম্যাচ দেখেছি ও খেলেছি, কিন্তু বেশি বিরতিতে কোনো ম্যাচকে ভালো হতে দেখিনি।’

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিকমেট্রিকসের বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাইড্রেশন বিরতি নিয়ে হওয়া আলোচনার ৭৫ শতাংশই নেতিবাচক।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে, শুধুমাত্র চরম গরমের সময় কুলিং ব্রেকের বর্তমান নিয়মই যথেষ্ট। একই অবস্থানে রয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগও। তারা আপাতত প্রতিটি ম্যাচে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি চালুর কোনো পরিকল্পনা করছে না।

তবে ফুটবলে আগে যেসব পরিবর্তন যেমন ব্যাক-পাস নিয়ম, ভিএআর বা বাড়তি যোগ করা সময় নিয়ে বিতর্ক ছিল, সেগুলোই পরে স্থায়ী হয়েছে। তাই হাইড্রেশন বিরতিও ভবিষ্যতে ফুটবলের নিয়মিত অংশ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সূত্র : রয়র্টাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights