হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অনিশ্চিত আইসল্যান্ডের ইইউ গণভোটের ফল

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করা হবে কি না—এ নিয়ে আইসল্যান্ডের গণভোটের ফলাফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

রবিবার প্রকাশিত দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৭টি ভোট গণনার পর ৫০ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, ৪৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দুই পক্ষের ব্যবধান মাত্র ৪৩৫ ভোট।

প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিরের মধ্য-বামপন্থী সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ ও হুমকির প্রেক্ষাপটে ভোটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই আয়োজন করা হয়।

প্রায় চার লাখ মানুষের দেশ আইসল্যান্ডে গণভোটের প্রচারে নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনীতি ও মৎস্যশিল্পের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দেশটি ইতোমধ্যে ইইউর একক বাজার এবং শেনজেন সীমান্তমুক্ত অঞ্চলের অংশ। তবে ইইউর সদস্য হলে দেশটির ওপর আরও কিছু বাণিজ্যিক ও আর্থিক বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে ইউরো গ্রহণের পথও খুলে যেতে পারে।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর ২০০৯ সালে আইসল্যান্ড ইইউতে যোগদানের আবেদন করে। তবে ২০১৩ সালে ইউরো-সংশয়বাদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সদস্যপদের আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। সে সময়ও সবচেয়ে বড় বাধা ছিল মৎস্যসম্পদ নিয়ে বিরোধ।

আইসল্যান্ডের রপ্তানি আয়ের বড় একটি অংশ মৎস্য ও সামুদ্রিক শিল্পনির্ভর। তাই ‘না’ ভোট দেওয়া অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইইউর অভিন্ন মৎস্যনীতি কার্যকর হলে দেশের সমুদ্রসীমা ও লাভজনক মৎস্যসম্পদের ওপর আইসল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।

শনিবার রাজধানী রেইক্যাভিকে ভোট দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ফ্রস্টাডোটির বলেন, গণভোট আইসল্যান্ডের বিশ্বে অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, তার সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।

গণভোটের ব্যালটে প্রশ্ন ছিল—‘আইসল্যান্ডের কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরু করা উচিত?’

তবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ সরাসরি ইইউতে যোগ দেওয়া নয়। এটি কেবল সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর অনুমতি দেবে। পরবর্তী সময়ে কোনো যোগদান চুক্তি হলে সেটি অনুমোদনের জন্য আবারও গণভোট আয়োজন করতে হবে। একইভাবে, ‘না’ ভোটও ভবিষ্যতে আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করবে না।

নিরাপত্তার বিষয়টিও এবারের গণভোটে গুরুত্ব পেয়েছে। আইসল্যান্ড ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও দেশটির নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী নেই। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে দেশটি মিত্রদের ওপর নির্ভরশীল।

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর আইসল্যান্ড কিয়েভকে সমর্থন দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে দেশটির আশপাশে রাশিয়ার সামুদ্রিক তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ প্রকাশ আইসল্যান্ডের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights