হালুয়াঘাটে সংকটে থাকা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আর্থিক সংকটে থাকা একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। পরিবারটির তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ভাসমান চায়ের দোকান চালুর সরঞ্জাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বসুন্ধরা শুভসংঘের হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উদ্যোগে এসব সহায়তা দেওয়া হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারটির উপার্জনের বিকল্প পথ তৈরি হয়েছে।
পরিবারটির দুর্দশার বিষয়টি সামনে আসে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর নীরবতা থেকে। দুর্গাপূজার ছুটির আগে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার সময় দেখা যায়, একই পরিবারের ওই দুই শিক্ষার্থী টানা চার দিন ধরে খাবারের বিষয়ে কোনো উত্তর দিচ্ছিল না। বিষয়টি নজরে আসে বসুন্ধরা শুভসংঘের হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা রেজাউল করিমের।
পরে শাখার উপদেষ্টা নাফিউল হাসান মুবিন স্কুলের খোঁজখবর নিতে গেলে পাশের বাড়ির এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানতে পারেন। তিনি জানতে পারেন, আর্থিক অনটনের কারণে পরিবারের সদস্যরা টানা চার দিন ধরে শুধু মুড়ি ও চিড়া খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সংসারে খাবার জোগাড় করাই তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
পরিবারটির কর্তা মো. রোকন উত্তর বাজারের একটি চায়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। দৈনিক মজুরিই ছিল সংসার চালানোর অন্যতম অবলম্বন। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দোকানটি মালিকপক্ষ বন্ধ রাখায় তাঁর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের নিয়মিত আয়ের পথও। খাবার কেনা, সংসারের খরচ চালানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। পরিচিত দোকানিদের কাছ থেকে ধারদেনা করেও পরিবারের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না।
পরিস্থিতি জানার পর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিষয়টি সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তরকে জানানো হলে পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি সংকট বিবেচনায় নিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করতে ভাসমান চায়ের দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এরপর বসুন্ধরা শুভসংঘের হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা নাফিউল হাসান মুবিন ও উপদেষ্টা রেজাউল করিম পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি কীভাবে তাঁদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়েও উদ্যোগ নেন তাঁরা।
এরই ধারাবাহিকতায় পরিবারটির হাতে চায়ের ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি চায়ের ফ্লাস্ক, দুই কেজি চিনি, এক কেজি ইস্পাহানি চা-পাতা, ৫০০ গ্রাম আদা, দারুচিনি, এলাচ, ১২টি কেক, ছয়টি কাচের কাপ ও ১০০টি ওয়ানটাইম কাপ। এ ছাড়া পরিবারের তাৎক্ষণিক খাদ্যচাহিদা মেটাতে দেওয়া হয় পেঁয়াজ, আলু, রসুন, ডিম, একটি বালতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী।
সহায়তা পেয়ে পরিবারটির সদস্যরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। চায়ের ব্যবসা শুরু করতে পারলে মো. রোকন নিজের শ্রমে সংসারের খরচ চালাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এতে পরিবারের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগে তাৎক্ষণিক খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি পরিবারটির স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংকটের সময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি আয়ের একটি বিকল্প পথ তৈরি করে দেওয়ায় পরিবারটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা নাফিউল হাসান মুবিন, উপদেষ্টা রেজাউল করিম ও সহসভাপতি ফারজানা রিয়া।
অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে জীবিকা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার এ উদ্যোগের মাধ্যমে বসুন্ধরা শুভসংঘের ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ থাকার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
