১২০ টাকা চুরির অপবাদে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, অপমানে কিশোরীর আত্মহত্যা

পাবনা প্রতিনিধি

মাত্র ১২০ টাকা চুরির অপবাদে খুঁটিতে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের অপমান সইতে না পেরে শ্রাবন্তী খাতুন (১৪) নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার বিকেলে পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্ত হান্নান মোল্লাকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।

​নিহত শ্রাবন্তী ওই গ্রামের দিনমজুর আলতাব হোসেনের মেয়ে। সে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে প্রতিবেশী হান্নান মোল্লার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করত।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে হান্নান মোল্লার ঘরের আলমারির ড্রয়ার থেকে ১২০ টাকা হারিয়ে যায়। চুরির সন্দেহে শ্রাবন্তীকে অভিযুক্ত করেন হান্নান ও তার স্ত্রী রুবিয়া খাতুন। একপর্যায়ে কিশোরী শ্রাবন্তীর দুই হাত রশি দিয়ে ঘরের বারান্দার খুঁটির সাথে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করা হয়। নির্যাতনের মুখে কিশোরীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে অভিযুক্তরা।

​নির্মম এই নির্যাতনের সময় উপস্থিত প্রতিবেশীদের কেউ কেউ তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। দিনের আলোতে সবার সামনে এমন অপমান ও শারীরিক লাঞ্ছনা মানসিকভাবে ভেঙে দেয় কিশোরী শ্রাবন্তীকে। নির্যাতনের পর ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে সবার অগোচরে সে নিজের ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

​নিহত শ্রাবন্তীর মা আছিয়া খাতুন ও বাবা আলতাব হোসেন বাড়িতে ফিরে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারিতে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

​খবর পেয়ে চাটমোহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় অভিযুক্ত হান্নান মোল্লাকে আটক করা হলেও তার স্ত্রী রুবিয়া খাতুনকে পুলিশ আটক না করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রুবিয়া খাতুনও এই নির্যাতনের সমান অংশীদার ছিলেন।

​শ্রাবন্তীর মামা সিফাত হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, আমার ভাগ্নি যদি চুরি করেও থাকে, তবে তার বাবা-মাকে জানানো যেত। কিন্তু তারা তা না করে সবার সামনে খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়েছে। এই অপমান সইতে না পেরেই মেয়েটা নিজের জীবন দিল। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

​চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। মূল অভিযুক্ত হান্নান মোল্লাকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অন্য জড়িতদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights