১৩০ প্রকারের বর্ণে জাতীয় সংগীত লিখেছেন
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
মনির হোসেন। বয়স ৬৫এর ঘরে। অবসরপ্রাপ্ত হাই স্কুল শিক্ষক। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে বাংলা বর্ণমালা নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি ১৩০ প্রকারের বাংলা বর্ণে জাতীয় সংগীত লিখে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। তার বাড়ি কুমিল্লা তিতাস উপজেলার জগতপুর গ্রামে। জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সাধনার মাধ্যমে এই কাজ করেছেন। অনেকে বাড়িতে এসে তার ব্যতিক্রম আবিষ্কার দেখেন।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গ্রামের বদর উদ্দিন সরকার ও হাসনে আরা বেগমের ৩ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে মনির ২য়। তিনি হাই স্কুলে পড়ার সময় হাতের লেখা সুন্দর না হওয়ায় শিক্ষকদের বকা খান। সেই থেকে জেদ করেন। তিনি চেষ্টা করতে করতে হাতের লেখা সুন্দর করেন। এক পর্যায়ে তার খেয়াল হয় ব্যতিক্রম কিছু করার। তিনি বাংলা বর্ণকে নানান আকৃতিতে লিখতে থাকেন। ৫০ বছরে তা ১৩০ প্রকার করেন। তিনি ১৫০ প্রকারে বাংলা বর্ণ লেখার আশা করেন।
লেখার ডিজাইন গুলোর রয়েছে চমৎকার ও মজাদার সব নাম। যেমন সেমাই, মেয়েলি, খসড়া, চৌকোণ, নকশা ও চারু। এছাড়া রয়েছে চায়না, জাপানি, রাশিয়ান, কোরিয়ান, আরবি, হিন্দি ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষার বর্ণের মতো করে বাংলা লেখা। হুবহু রবীন্দ্র নাথ ও নজরুলের লেখাও তিনি কপি করতে পারেন।
তার ছাত্র মেহরাজ সরকার, রিফাত সরকার, রুবেল সরকার ও শরীফ আহমেদ সুমন বলেন, আমরা স্কুল জীবনে দেখেছি স্যারের হাতের লেখা কত চমৎকার। তিনি বইয়ের ছাপা নামটাও বোর্ডে হুবহু লিখতে পারেন। স্যারের এই কৃতিত্ব নিয়ে আমরা গৌরব বোধ করি। হস্তাক্ষর গাইড নামে স্যারের একটা বই ছিলো, তা পুনরায় প্রকাশ করা হোক।
মনির হোসেন বলেন, অনেকে দাওয়াত কার্ড লিখে দিতে বলেন। স্কুলে শিক্ষকতার সময়ও সুন্দর লেখার জন্য সম্মান পেয়েছি। এখনও মানুষ মূল্যায়ন করে। চেষ্টা করলেই সবাই তার লেখাটা সুন্দর করতে পারবেন। আমার কাছে এসে অনেকে ১০ দিন সময় দিয়ে হাতের লেখা সুন্দর করেছেন। আমি চাই বাংলা ভাষার সকল মানুষ সুন্দর বর্ণে বাংলা লিখুক।
তিনি আরো বলেন, পরিবার এক সময় এটা নিয়ে কটুক্তি করতো। বলতো এটা করে কি লাভ? তবে মানুষ এটাকে নিয়ে আলোচনা করায় সবাই এখন খুশি।
তিনি বলেন, কাজ করতে করতে বাংলা বর্ণগুলোর প্রতি মায়া জন্মে গেছে। প্রতিটি বর্ণকে আমি দরদের চোখে দেখি। শুধু মাথায় ঘুরে কিভাবে আরো সুন্দর করে বর্ণগুলো উপস্থাপন করা যায়।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মতিন সৈকত বলেন, এটা একটা ইউনিক বিষয়। আমি বলবো এটা বাংলা ভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধের প্রতিচ্ছবি। তার এই কাজ সম্ভবত পৃথিবীতে বিরল। এটা গ্রীনিচ রেকর্ড বুকে স্থান পেতে পারে।
