১৬ দফা দাবিতে ইবি কর্মকর্তাদের আন্দোলন

ইবি প্রতিনিধি

১৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাধারণ সভা করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কর্মকর্তারা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ সভা করেন। সভাটি বেলা ৯ টায় শুরু হয়ে দেড়টায় শেষ হয়। সভায় প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তারা লাগাতার পাঁচ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছিলেন।

জানা যায়, কর্মকর্তাদের কয়েকজন ১৬ দফা দাবির মধ্যে দুই দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এ দুটি দাবিই কর্মকর্তাদের প্রধান দাবি বলে জানা গেছে। তারই প্রতিবাদে আজ তারা এ আলোচনা সভা করেছেন। আগামী চারদিনের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশায়ারি দেন তারা। আগামী শনিবার সভা করে এ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এটি এম এমদাদুল হক।

কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা চাকরির বয়স ৬২ বছরে উন্নীত করা ও পোষ্য কোটায় শর্ত শিথিল করা এই দুটি দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি। কারণ এই সময়ে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব না। তবে আমি সব দাবির বিপক্ষে না। সরকারও নির্বাচনের আগে সবকিছু শান্তশিষ্ট রাখতে বলেছেন।
কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এটি এম এমদাদুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের ন্যায়সঙ্গত দাবিতে আন্দোলন করছি। কতিপয় কয়েকজন বিরোধিতা করে আমাদের আন্দোলনকে অন্যদিকে মোড় ঘুরানোর চেষ্টা করছে। আমরা আমাদের দাবির পক্ষে অটল রয়েছি। দাবি না মানলে আগামী শনিবারে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব।

কর্মকর্তাদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো, চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছর করা, সিন্ডিকেটর সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মকর্তাদের সেশন বেনিফিট বহাল রাখা, আইসিটি সেলের উপ-রেজিস্ট্রার মমতাজের চাকরি হতে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, পোষ্য কোটার ভর্তিতে শর্ত শিথিল করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুজনিত কারণে কর্মচারীবৃন্দের পরিবারের যোগ্যতম ব্যক্তিকে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মৃত্যুর ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যেই চাকরি প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়নের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরীক্ষার পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদিত কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালার বিশেষ টিকার আলোকে ১১ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে শাখা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে।

গত শনিবার ২ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তারা। অফিস চলাকালীন সকল অফিসিয়াল কাজ থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করেন। তবে ছাত্র সংশ্লিষ্ট জরুরী কাজ চিকিৎসা, সনদপত্র উত্তোলন ইত্যাদি কাজ অব্যাহত রেখেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। গত জুলাই মাসে একই দাবিতে লাগাতার প্রায় ১৬ দিন পাঁচ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেছিলেন কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights