২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা’

দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রায় ২০০ বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা শুরু হয়েছে। মেলাকে কেন্দ্রে করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘোড়া নিয়ে এসেছেন ঘোড়া ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়ভাবে গরু, মহিষ ও ছাগল তেমন বেচাকেনা না হলেও ঘোড়াই বেশি বেচাকেনা হয়। তাই এ মেলা বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা নামে দেশব্যাপী পরিচিত।

এদিকে মেলা উপলক্ষে আগত ঘোড়া ব্যবসায়ীদের ঘোড়ার অংশগ্রহণে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ঘোড়দৌড় দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুঁটে আসেন নানাবয়সী দর্শনার্থী-ক্রেতা। তাছাড়া মেলায় বসেছে নানা দোকান।

প্রতিবছর মেলা শুরুর আগ থেকেই সবাই ঘোড়া বেচাকেনা করতে আসেন। মেলাকে কেন্দ্র করে হরেক রকম দোকানপাট বসে মেলায়। মেলায় বিনোদনের জন্য সার্কাস, দোলনাসহ নাগর দোলা বসেছে। মেলা শুরুর আগেই এখানে ঘোড়া বেচাকেনার জন্য চলে আসে।
জানা যায়, প্রতি বাংলা বছরের ৯-১০ বৈশাখ থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ী মাঠে এই ঐতিহ্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা বসে। ১৩ বৈশাখ ঘোড়াসহ গবাদিপশু বেচাকেনার জন্য মেলার ছাপা (রশিদ) বের হয়। মেলাটি অন্তত ১৫ দিন স্থায়ী হয়।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেলাবাড়ী মাঠে মেলার উদ্বোধন করেন ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুশফিকুর রহমান বাবুল।
মেলা কমিটির সভাপতি শিক্ষক সৈয়দ আবুল হাসান আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান মিজান, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম ডাবলু ও প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁর সাপাহার এলাকা থেকে ১৩টি ঘোড়া নিয়ে মেলায় এসেছেন ঘোড়া ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমান, মোস্তকিম, আবুল কালাম, নুর হোসেন, নুরুল ইসলামসহ আরো অনেকে। তারা পুরো বছর দেশের বিভিন্নস্থানে অনুষ্ঠিত ঘোড়ার মেলাতে ঘোড়া নিয়ে অংশ নেন। ঘোড়া বিক্রি ও ঘোড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন তারা।

বিরামপুরের ভগবতিপুর থেকে আসা ঘোড়া ব্যবসায়ী সোনামিয়া বলেন, ২০ বছর ধরে এই ঘোড়ার মেলায় বেচাকেনা করছি। এবারও চারটি ঘোড়া বিক্রি করতে মেলায় এসেছি। ঘোড়ার মধ্যে একটি সাদা রংঙের বিজলী নামের ঘোড়াটা খুবই দুর্দান্ত। এ ঘোড়ার দাম রাখা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু ক্রেতারা ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দরদাম করছেন। ৫০ হাজারের বেশি হলেই ঘোড়াটি বিক্রি করে দেব।

স্থানীয় আলাদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব বাবলু বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি মেলা কমিটিও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকে এসেছেন এই মেলায় ঘোড়া বিক্রির জন্য। এখন বিদেশ থেকে ঘোড়া না আসলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেলায় ঘোড়া আসে।

ফুলবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ঐতিহ্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলার মালিক হচ্ছে জেলা প্রশাসক। শুক্রবার থেকে মেলায় ঘোড়া বেচাবিক্রির জন্য ছাপা (রশিদ) বের করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights