২৪ ঘণ্টায়ও ধরা পড়েনি সীমান্ত পেরিয়ে আসা বাঘ, আহত ৪ বাংলাদেশি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এলাকা থেকে আসা একটি বাঘের আকস্মিক আক্রমণে চার বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বন বিভাগ এখন (সোমবার বিকেল ৫টা) পর্যন্ত বাঘটি উদ্ধার করতে পারেনি। তবে সোমবার দুপুরের পর থেকে ঢাকা থেকে আসা একটি বিশেষ টিম বাঘটি উদ্ধারে কাজ করছে।

বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করতে রবিবার রাতে ড্রোন ব্যবহার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরপর থেকে বাঘটি যাতে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য রাতভর পাহারা দেয় বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সোমবার সকাল থেকে ধানক্ষেতের ভেতর বাঘটির কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় সীমান্তবর্তী ওপার থেকে একটি বাঘ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ওই সময় মাঠের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিকাজ করছিলেন স্থানীয়রা। বাঘের আকস্মিক হামলায় শরিফা বেগম, আফসার উদ্দিন ও নজরুল ইসলামসহ চারজন গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের ওপার থেকে পরিকল্পিতভাবে বাঘটি বাংলাদেশের লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে এখনো বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আল মামুন জানান, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা বন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, রাতে ধানক্ষেতে বাঘটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। বিজিবির ড্রোন ক্যামেরায় বাঘটির চলাফেরার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাঘের গর্জনের শব্দও রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সোমবার সকাল থেকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বাঘটি ধানক্ষেতের অন্য কোনো স্থানে লুকিয়ে থাকতে পারে। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত, পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং নিরাপদে উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। তবে বাঘটি বর্তমানে ঠিক কোথায় রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র জানান, বাঘের আতঙ্কে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। বন্যপ্রাণীটিকে দ্রুত উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights