৭ কিমিতে আটকা ২ হাজার কোটি টাকার সুফল
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চল, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দাদের সড়ক যোগাযোগের প্রধান পথ কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। সড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৯ কিলোমিটার। ২০১৮ সালে ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কটির চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়। তবে ৮ বছরে ৩ দফায় বরাদ্দ ও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি এর কাজ। ৫৯ কিলোমিটার সড়কটির মাঝে সাড়ে ৭ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ না করেই ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের সমাপ্ত করা হয়। ফলে পুরো কাজের সুফল পাচ্ছে না তিন জেলার মানুষ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে লাকসাম পৌর এলাকার দৌলতগঞ্জের ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার, একই উপজেলার চন্দনা বাজার এলাকায় আধা কিলোমিটার, লালমাই উপজেলার শানিচোঁ এলাকার ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং একই উপজেলার বাগমারা বাজার এলাকার ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কের অংশ চার লেনে উন্নীত করা হয়নি। ফলে এই জায়গাগুলোতে প্রতিদিন দীর্ঘসময় যানজটের ভোগান্তিতে পড়ছেন কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার যাত্রীরা। সেই সঙ্গে ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাগমারা বাজারে বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। দুই পাশে সড়ক লাগোয়া ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। ভবনের গায়ে বাসের ওপরের অংশ লেগে যায়। এখানে দুই বাস ক্রস করতে হয় সময় নিয়ে। তার ওপরে বাজারে নেই ট্রাফিক ব্যবস্থা। ছোট পরিবহনগুলোও সড়কের ওপরে রেখে দেওয়া হয়। রাত ১২টায়ও এখানে মানুষ সড়কে আটকে থাকেন। শুক্রবার হাটের দিন হওয়ায় বাগমারায় আটকে থাকেন তিন জেলার মানুষ। প্রায় একই অবস্থা লাকসাম বাইপাস এলাকায়। এদিকে লাকসামের চন্দনা বাজারে কিছু অংশ চার লেন না হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। চন্দনা এলাকার দোকানদার বদিউল আলম ও ইমাম হোসেন জানান, চন্দনার সরু রাস্তার অংশের দিকে তাদের দেখা মতে ৮ বছরে দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। তার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চার লেনের কাজ দ্রুত শেষের দাবি জানান।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, লাকসাম বাজারের বাইপাস, শানিচোঁ ও বাগমারা বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। লাকসাম ও বাগমারা বাজারে যানজটের ভোগান্তিতে পড়া দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের সুফল কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারছেন না।
লাকসাম দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান দুলাল বলেন, মহাসড়কের ফোরলেনের কাজটি মামলা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে আটকে গেছে। আমি বলব, এখানে দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।
কুমিল্লা মোটর অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকার বলেন, চার লেনের কাজ শেষ না হওয়ায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে সড়ক বিভাগকে আন্তরিক ভূমিকা নিয়ে কাজগুলো শেষ করতে হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান বলেন, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিপুলাসার পর্যন্ত কুমিল্লা অংশে ৩৭ কিলোমিটার। তার মধ্যে অধিকাংশ এলাকার চার লেনের কাজ শেষ হয়েছে, সাড়ে ৭ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়নি। বাগমারায় ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে এবং অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন হয়ে গেছে। বরাদ্দ ছাড় হলে বাগমারাসহ অন্য এলাকার চার লেনের কাজ শুরু হবে।
