চাঁদপুরে ভাতিজার হাতে খুন হন বিউটিশিয়ান রিক্তা

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুর ফরিদগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ভাতিজা মেহেদী হাসান শুভ’র হাতে খুন হন বিউটিশিয়ান রিক্তা (৩৫)। প্রবাসী হারুনুর রশিদের স্ত্রী বিউটিশিয়ান মমতাজ বেগম রিক্তা খুন হওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ও আটককৃতের স্বীকারোক্তিতে খুনের রহস্য বের করতে সক্ষম হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে ফরিদগঞ্জে এক প্রেস কনফারেন্সে হত্যার তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ কুমার দে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ থানার ওসি সাইদুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুমন মিয়া, রিক্তার প্রবাসী স্বামী হারুনুর রশিদ এবং হত্যা মামলার বাদী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ কুমার দে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বুধবার রাতে বিউটিশিয়ান মমতাজ বেগম রিক্তার সাথে তার আপন ভাতিজা আবদুল মালেকের ছেলে ঢাকায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং- পড়ুয়া মেহেদী হাসান শুভর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবা-মায়ের নামে কটু কথা সইতে না পেরে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরি দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয় এবং লাশ ঘরে থাকা লেপে মুড়িয়ে বাথরুমে ফেলে রাখে।
প্রেস ব্রিফিং শেষে থানা পুলিশ অভিযুক্ত মেহেদী হাসান শুভকে বিকালে চাঁদপুর আদালতে পাঠায়।

গত ১৭ জানুয়ারি ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে গৃদকালিন্দিয়া বাজারের ‘বধূয়া বিউটি পার্লার’ এর সত্ত্বাধিকারী মমতাজ বেগম রিক্তা নিজের বাবার বাড়িতে নৃশংস খুনের শিকার হন। ঘটনার পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তার আপন বোনের ছেলে বাপ্পী ও ভাতিজা মেহেদী হাসান শুভকে আটক করে। একপর্যায়ে মেহেদী হাসান শুভ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক চরমান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি ও কাটার আলামত হিসেবে উদ্ধার করেন।

মমতাজ বেগম রিক্তার সাথে ১০ বছর পূর্বে চট্টগ্রামের প্রবাসী হারুনুর রশিদের বিয়ে হয়। কিন্তু রিক্তার পিতা-মাতা না থাকায় তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। রিক্তার কোনো সন্তান নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights