জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গন ইফতার’ কর্মসূচি পালন
জুনায়েদ মাসুদ, জবি প্রতিনিধি ;
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ইফতার পার্টির ওপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গণ ইফতার কর্মসূচি পালন করে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গত ১২ মার্চ মঙ্গলবারে প্রথম রমজানের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ইফতার আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ৬ থেকে ৭ জন করে দলে দলে বিভক্ত হয়ে ইফতার করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। তাছাড়া কেন্দ্রীয় মসজিদের বারান্দাতেও ইফতার করে অনেক শিক্ষার্থী। অন্যান্য সময়ের মতো ইফতার হলেও সেদিন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিলো। এই ঘটনা শাবিপ্রবি ও নবিপ্রবির ক্যাম্পাসে নিষেধাজ্ঞা আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন অনেক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন বলেন, সম্প্রতি দেশের সনামধন্য দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাবিপ্রবি ও নোবিপ্রবি সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন নিষিদ্ধ করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি সংস্কৃতিকে মুছে দেয়ার পায়তারা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ টি মণ্ডপ করে সরস্বতী পূজা করা হলে ইফতার আয়োজন করতে কিসের আপত্তি? আমি কোন ধর্ম বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ছোট করছিনা। আমি জানতে চাচ্ছি এখানে অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা কি এখানে প্রশ্নবিদ্ধ নয়? তাদের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া পাওয়ার পরিপন্থী। তাই আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ইফতার করেছি। আমরা ওই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বলবো তারা যেন তাদের আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। আরও আশা করি আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত না নেয়। ইফতারে অংশ নেয়া সৌরভ ঘোষ নামের এক সনাতন ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি প্রতিবছরই রমজানে বন্ধুদের সাথে একসঙ্গে ইফতার করি। আমি মনে করি একটি অসাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রকাশ করার অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে সকল ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখা। এক বছর পর রমজান মাস আসে এই মাসকে সাদরে গ্রহণ করা উচিত সবার।
এর আগে বাদ জোহর দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতার পার্টির নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল ও মানববন্ধন করে। তবে প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় সংক্ষিপ্তভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে তারা।
