মুসলিম অধ্যুষিত স্কুল ডিস্ট্রিক্টে হালাল খাদ্য সরবরাহের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
‘গত চার বছর জর্জিয়া স্টেটের খেঁটে খাওয়া মানুষদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয় এমন ১২টি বিল আমি স্টেট সিনেটে উত্থাপন করেছিলাম। সবকটি পাশের পর তা আইনে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, মুসলিম অধ্যুষিত স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সমূহের পাবলিক স্কুলে আপনা-আপনি হালাল খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা হয়েছে।

জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আমি আলোচনা শুরুর পরই অন্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের সমর্থন ব্যক্ত করায় স্টেট প্রশাসন নিজ থেকেই একটি নির্দেশ জারি করেছে। ফলে আমাকে আর এ নিয়ে বিল উঠানোর প্রয়োজন হয়নি। এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে স্টেট পার্লামেন্টের সকলের সাথে আমার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে’।

এসব তথ্য জানালেন জর্জিয়া স্টেটের ডেমক্র্যাট-সিনেটর শেখ রহমান।
শেখ রহমান বললেন, রিপাবলিকান পার্টির সিনেটররাও আমাকে যথেষ্ট সম্মান জানায়। মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব কখনো আমার কাছে দৃশ্যমান হয় না। অর্থাৎ ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য এক উদাহরণে পরিণত হয়েছে জর্জিয়া স্টেট পার্লামেন্ট। গত নভেম্বরে নির্বাচনে নাবিলা ইসলামও জর্জিয়া স্টেটের সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিও বাংলাদেশি আমেরিকান এবং জর্জিয়া স্টেট পার্লামেন্টে প্রথম মুসলিম নারী সিনেটর। অর্থাৎ আমার মত নাবিলাও ইতিহাস রচনা করেছেন।

টানা দু’টার্ম বিপুল ভোটে বিজয়ী হবার পর গত নভেম্বরের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয় মেয়াদের জন্যে নির্বাচিত হওয়ায় ১০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখা কর্তৃক নিউইয়র্কে সিনেটর শেখ রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সে সময় উপস্থিত বিশিষ্টজনদের সাথে নানা বিষয়ে মতবিনিময়কালে কিশোরগঞ্জের সন্তান শেখ রহমান বলেন, নিজ প্রতিবেশীগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রচনা করতে হবে। তাহলেই মার্কিন রাজনীতিতে এগিয়ে চলার পথ সুগম হবে।

শেখ রহমান উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, টেক্সাস প্রভৃতি এলাকায় বাংলাদেশি আমেরিকানের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এখন সময় হচ্ছে মার্কিন রাজনীতিতে নিজেদের আসন পোক্ত করার। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের স্বার্থেই সিটিজেনশিপ গ্রহণকারি সকলের উচিত ডেমক্র্যাট অথবা রিপাবলিকান হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে ভোট-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করা। ব্যালটে অবতীর্ণ হলেই কম্যুনিটির গুরুত্ব বাড়ে প্রশাসনে-এটি ভুলে গেলে চলবে না।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়ার সঞ্চালনায় জ্যামাইকায় হিলসাইড এভিনিউতে এ শুভেচ্ছা-মতবিনিময়ে অন্যান্যের মধ্যে কথা বলেন মূলধারায় প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলম, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, যুগ্ম সম্পাদক এবং বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির সিইও আলিম খান আকাশ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী জাফরউল্লাহ, কম্যুনিটি লিডার ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক এবং এভিএস রিয়েল্টির কর্ণধার রফিক খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights