গাইবান্ধায় পুকুরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটায় মাছ চাষ প্রকল্পের পুকুরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রীধাম চন্দ্র (৩৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে মারপিট করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। নিহত শ্রীধাম উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ছাটকালপানি (মাঝিপাড়া) গ্রামের মৃত মহেন্দ্র দাসের ছেলে।
শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ ভারপ্রাপ্ত সোহেল রানা। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের মাছের আড়তে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, মামলা সূত্রে ও স্থানীয়রা জানান, সাঘাটা উপজেলার শিমুলতাইড় (নয়াপাড়া) গ্রামের জোবেদ আলীর ছেলে মিলন মিয়া মাঝিপাড়ায় এক পুকুরে মাছ চাষ করতেন। একারণে ওই গ্রামের মন্দির থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেন তিনি। ১৭ মাসের বকেয়া বিল বাকি পড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে ওই মন্দিরের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষ পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করে। আবারো জোরপূর্বক মিলন মিয়া বিদ্যুৎ সংযোগ চাইলে কথা কাটাকাটি হয় তাদের মধ্যে।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বোনারপাডা বাজারে শ্রীধাম চন্দ্রের মাছের দোকানে মিলন মিয়া মোবাইল ফোনে আরো ৫ থেকে ৬ জন সহযোগীকে ডেকে এনে শ্রীধাম চন্দ্রকে কিল ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পরদিন শুক্রবার সকালে এ হত্যার প্রতিবাদে মাঝিপাড়ার সহস্রাধিক এলাকাবাসী উপজেলার বোনারপাড়া হাকিমের মোড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান ও বিক্ষোভ করে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এ সময় গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন ও গাইবান্ধা সেনাবাহিনী ক্যাম্প সার্জেন্ট আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বস্ত করলে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন বিক্ষোভকারীরা।
পরে নিহত শ্রীধামের বড় ভাই সুভাষ চন্দ্র একটি হত্যা মামলা করেন।
এ বিষয়ে সাঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ ভারপ্রাপ্ত সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় মিলন মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামী করা হয়েছে জানান তিনি।
এব্যাপারে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
