গোটা দেশে ভয়াবহ ডেঙ্গু

প্রতিদিন ডেস্ক

দেশের সব জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোতে এ অবস্থা ভয়ংকর। রোগীদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলোকে। চিকিৎসকরা বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগের একার পক্ষে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ বাড়ি, নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে এডিস মশা বিস্তার লাভ করতে না পারে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ময়মনসিংহে ২৪ দিনেই ১৩ মৃত্যু : একদিকে হামের রোগীর চাপ, অন্যদিকে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ- ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেন রোগীর চাপ কমছেই না। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি মাসের ২৪ দিনেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩ জন। এ সময়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায়ও ডেঙ্গু আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৫৯ জনের বিপরীতে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৭০৬ জন। রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে শয্যাসংকট।

বরিশালে প্রকৃত চিত্র অজানা : বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপের প্রকৃত চিত্র জানা যাচ্ছে না। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্য থাকলেও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। ফলে বিভাগে মোট কত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং কতজন মারা গেছেন, তার সঠিক হিসাব নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ হাজার ২০১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ১৫ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে মোট কত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, তার সমন্বিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রেফায়তুল হায়দার বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীদের তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরও কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তথ্য দিচ্ছে না। যার কারণে ডেঙ্গু ও হামের বর্তমান সঠিক চিত্র তুলে ধরা যাচ্ছে না। সঠিক পরিস্থিতি না জানলে সরকারের পক্ষ থেকেও কার্যকর পরিকল্পনা করা কঠিন হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্য জরুরি।

যশোরে মৃত ২, আক্রান্ত ১ হাজার ২৮৮ : জেলায় এবার আক্রান্তের হার বেশি হলেও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার বেশ কম। বুধবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন মনিরামপুর পৌর এলাকার পূর্ণ বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস (৪৫)। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ৯ জুন তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুলাই মারা যান তিনি। মারা যাওয়া আরেকজন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দননগর গ্রামের গৌতমের স্ত্রী রেখা রানী (৫০)। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যশোরের সরকারি হাসপাতালগুলো নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৬৫ জন।

হটস্পট কুমিল্লার দাউদকান্দি : দাউদকান্দিতে প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি পর্যায়ে ২৪৫ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১০৩ জন। জুলাইয়ে দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৮২ জন। আগস্টে তা বেড়ে হয় ৩৯৭ জন। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৫ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights