পুনর্বহালের নামে তাকে সুকৌশলে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বগারচর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ !
জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জে দুর্নীতির দায়ে বদলিকৃত বগারচর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেনকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
পুনর্বহালের পর ১৩ এপ্রিল (রোববার) বগারচর ইউনিয়নে স্বগর্বে অফিস করেছেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন।
এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ভূমি সেবা গ্রহিতা ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের মধ্যে।
ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুনর্বহাল করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
পুনর্বহালের নামে তাকে সুকৌশলে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বগারচর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য সহ সেবা গ্রহিতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠে। একারণে গত ৮ এপ্রিল বগারচর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেনকে দেওয়ানগঞ্জে বদলি করা হয়। সাজ্জাত হোসেকে বদলির পর তার স্থলে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামকে বগারচর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।
পরে ১০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বগারচর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন শহিদুল ইসলাম। বদলির পর স্থানীয় সেবা গ্রহিতারা ঘুষের টাকা ফেরত নিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভিড় জমালে তোলপাড় শুরু হয়। এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে টাকা ছাড়া ভূমি সেবা মেলে না এমন সংবাদ প্রচারের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এদিকে অজ্ঞাত কারণে বদলির ৫ দিন পর সাজ্জাত হোসেনের বদলি স্থগিত করে বগারচর ইউনিয়নে পুনর্বহাল করা হয়।
গত ১৩ এপ্রিল (রোববার) সাজ্জাত হোসেন বগারচর ইউনিয়নে অফিস করলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
খবর পেয়ে ঘুষ নেওয়া সেবা গ্রহিতারা বগারচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভিড় করলে নায়েব সাজ্জাত হোসেন কৌশলে টাকা ফেরত দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই দিনই তার প্রতিনিধি দিয়ে ঘুষ নেওয়া সেবা গ্রহিতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
যেভাবে পারা যায় সেভাবেই ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নায়েব সাজ্জাত হোসেন।
অনেক ভুক্তভোগীকে আবার রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দিয়ে হুমকি দেওয়াচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে নায়েব সাজ্জাত হোসেনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, নায়েব সাজ্জাত হোসেন বগারচর ইউনিয়নে যোগদানের পর থেকেই রাম রাজত্ব কায়েম করেন। তিনি ইচ্ছামত ঘুষ বাণিজ্য করেন। টাকা না দিলে সেবা গ্রহিতাদের নানা কারণে হয়রানি করেন। তিনি প্রতিটি নামজারির জন্য ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে নামজারি করে থাকেন।
এছাড়াও অসংখ্য মানুষের কাছে ঘুষ নিয়েও নামজারি করে দেননি অভিযুক্ত সাজ্জাত হোসেন। তার বাড়ি জামালপুর সদরে হওয়ায় এবং তার এক ভাই একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় সেই দাপটে যাচ্ছেতাই করেছেন নায়েব সাজ্জাত হোসেন।
ইতোমধ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগীদের কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
কিন্তু এতো কিছুর পরও কিভাবে তাকে পুনর্বহাল করা হয় তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে বগারচর ইউনিয়ন জুড়ে।
স্থানীয়দের ধারণা তাকে ঘুষের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দিতে সেবা গ্রহিতাদের ম্যানেজ করতে কৌশলে তাকে আবার বগারচর ইউনিয়নে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই কার্যক্রম শুরু করেছেন অভিযুক্ত সাজ্জাত হোসেন। তার ঘুষ বাণিজ্যের পেছনের শেল্টারদাতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকার মানুষের। কার ইশারায় নায়েব সাজ্জাত হোসেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তারও শাস্তি চান ভুক্তভোগীরা।
পুনবর্হালের বিষয়ে জানতে চাইলে বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা জানান, তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ গুলো তদন্ত করা হবে। সেজন্য তাকে আবার অত্র ইউনিয়নে বহাল রাখা হয়েছে।
