যুদ্ধ বন্ধে আমিরাতে বৈঠকে বসছে রাশিয়া-ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসছে বসছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাতের অবসানের জন্য এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে।

যদিও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কয়েক মাস ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছে।তবে বৈঠকের আগে ক্রেমলিন যুদ্ধ শেষ করার জন্য কিয়েভকে পূর্ব ডনবাস অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়েছে দিয়েছে। এতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আগে তারা তাদের সর্বোচ্চ দাবি প্রত্যাহার করেনি বলে উঠে এসেছে।

এদিকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রায় চার ঘণ্টার ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ শেষ করতে চুক্তিতে আসতে রাজি পুতিন ও জেলেনস্কি। যদিও দুই পক্ষের আলোচনার মধ্যেই বাল্টিক সাগরে টহল দিচ্ছে রুশ যুদ্ধবিমান, চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ভাষণে চলমান বৈশ্বিক সংকট নিয়ে কথা বলেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার অভিযোগ, ইউরোপ আত্মরক্ষার কথা বললেও, কিছুই হয়নি এখন পর্যন্ত। উল্টো প্রতি বছর ইউরোপ ও বিশ্বের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। জেলেনস্কি আক্ষেপ করে বলেন, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো মার্কিন কারাগারে থাকলেও, পুতিন এখনো মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। ফলপ্রসূ ও বাস্তবসম্মত আলোচনা দাবি করে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধ অবসানে সব নথিপত্র এখন প্রস্তুত। তবে ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন তহবিলের বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এছাড়া, ভূখণ্ড ছাড়ের বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।

এমন অবস্থায় রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসেছে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিপক্ষীয় এই আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ দাবি করে জেলেনস্কি বলেন, এই বৈঠকেই ভূখণ্ড ছাড়ের মতো কঠিন বিষয়ে আলোচনা হবে। অন্তত একটি রূপরেখা তৈরি হবে বলে আশা তার।

ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, আমিরাতে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ভালো কিছু ফল আসবে। দুই দিনের বৈঠক নিয়ে অনেক আশাবাদী ইউক্রেন। এ বৈঠকে কঠিন ও অমিমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হয়তো কিছু চমকও আসতে পারে এ বৈঠকের পর।

একই সময়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। প্রায় চার ঘণ্টার আলোচনা কার্যকর ও স্পষ্ট ছিল বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। পরবর্তী পদক্ষেপে একমত হলেও, ভূখণ্ড ছাড় দেয়ায়ই মূল লক্ষ্য। রাশিয়া কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী বলের জানায় মস্কো।

ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশকাভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টার আলোচনা ব্যতিক্রম, বাস্তবসম্মত, গঠনমূলক ও কার্যকর হয়েছে। পাস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়েছে। এসময় তারা ইউক্রেনের দাবি ও অন্যান্য বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে বিপরীত ও বৈরি সম্পর্ক। তারা কোনো চুক্তিতে আসতে রাজি ছিল না। তাদের অবস্থান দুই মেরুতে। দুই পক্ষকে রাজি করানো ছিল কঠিন কাজ। তবে এখন মনে হয় তারা উভয়ই যুদ্ধের ইতি টানতে একটি চুক্তিতে আসতে চান।’

দু’পক্ষের মধ্যে যখন শান্তি আলোচনা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বাল্টিক সাগরের ওপর টহল দিচ্ছে রাশিয়ার দূরপাল্লার বোমারু বিমান। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরপেক্ষ জলসীমার ওপর বোমারু বিমানের পাশে ছিল আরও বেশ কয়েকটি যুদ্ধ বিমান।

রাশিয়া শুরু থেকেই বলে আসছে কার্যকর সমাধান না আসা পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা প্রত্যাহার বা হামলা বন্ধ করবে না তারা। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছেই। ইউক্রেনের সামরিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায় মস্কো। একই দিনে রাশিয়ান তেল স্থাপনায় পাল্টা হামলা করে ইউক্রেন।

সূত্র: রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights