ক্রীড়াঙ্গনে অনিয়মের তালিকা তৈরি!

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০২৪ সালে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল। কিছুদিন পর আবার ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। অবশ্য এ তালিকায় শুধু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনই (বাফুফে) বাইরে ছিল। কেননা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সরকার কোনো অবস্থায় নির্বাচিত কমিটি ভাঙতে পারে না। এটি যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের মাধ্যমেই বাফুফের নতুন কমিটি গঠিন হয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এখানে কেউ ফিফার নিয়ম ভাঙার সাহস পায়নি। ক্রিকেটেও আইসিসির নিয়মকানুন রয়েছে। তারপরও কৌশল খাটিয়ে বিসিবির কমিটির পরিবর্তন আনা হয়। পরে আবার নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষের পরই নতুন কমিটি গঠন হয়। যদিও এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অন্য সব ক্রীড়া ফেডারেশনে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন না থাকায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে ফেলা হয় নির্বাচিত কমিটি। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সার্চ কমিটি গঠন করে ফেডারেশনগুলো ভাঙার নির্দেশনা দেন। তাঁর এ উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও সার্চ কমিটির দায়িত্ব পালন নিয়েও বিতর্ক ছিল। যাক অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ দেড় বছর হতে চললেও নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়নি। সেটাই রহস্য। কথা ছিল যোগ্য ত্যাগী সংগঠকদের নিয়ে ফেডারেশনগুলোর অ্যাডহক কমিটি গঠন হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাকি তা মানা হয়নি।

১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতায় যারাই আসুক ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের পরই অ্যাডহক কমিটি ভেঙে দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার বলেই অ্যাডহক কমিটিগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার ফেডারেশনে থেকেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন। এমনই একজন কর্মকর্তা জানালেন, ‘আমাকে কাজই করতে দেওয়া হয়নি। নিজেরা যা খুশি তাই করেছে। অনিয়মের তালিকাও তৈরি করে রেখেছি। জাতীয় নির্বাচন শেষ হোক তাদের মুখোশ উন্মোচন করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights