সমীক্ষা ও নকশায় আটকা
নজরুল মৃধা, রংপুর
তিস্তা নদীর ওপর রেলসেতু। যে সেতুর ওপর দিয়ে সারা বাংলাদেশের সঙ্গে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সংযোগ। এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে লালমনিরহাট এক্সপ্রেস, বুড়িমারি এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসসহ অন্তত ১৫টি মেইল ও লোকাল ট্রেন। সোয়া শ বছর আগে তৈরি এই সেতুর মেয়াদ পার হয়েছে ২৬ বছর আগে। শুধু তাই নয়, এই সেতুর ওপর দীর্ঘদিন রেলের সঙ্গে সঙ্গে সড়ক পরিবহনও চলত। কিন্তু সেতুর মেয়াদ শেষ হওয়ায় ও ঝুঁকি বাড়ায় পরবর্তী সময়ে অন্যান্য যানবহনের জন্য পাশে একটি সেতু তৈরি করা হয়। আর রেলের জন্য বিদ্যমান তিস্তা রেলসেতুর পাশে নতুন একটি রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় বিগত সরকারের সময়। সেতুর সমীক্ষা ও নকশাও চূড়ান্ত হয়েছিল। সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা। ২০২২ সালে সেতু নির্মাণে বরাদ্দও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে দ্বিতীয় রেলসেতু নির্মাণের প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো সেতু দিয়েই একাধিক আন্তনগর ও মেইল-লোকাল ট্রেন চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, তিস্তা নদীর ওপর নতুন রেলসেতু নির্মাণ হলে এ অঞ্চলে রেল যোগাযোগে যুগান্তকারি পরিবর্তন আসবে। তবে বেল বিভাগ বলছে, সমীক্ষাসহ সব কিছু চূড়ান্ত হয়ে আছে। বরাদ্দ পেলেই যেকোনো সময় সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা রেলসেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এর পাশেই আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা করা হয়। সমীক্ষা যাচাই শেষে ২০২২ সালে চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর আর কাজ এগোয়নি। রেলসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন খুব দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া যেতে পারে। লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের মানুষ মনে করছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সদিচ্ছাই পারে তিস্তায় দ্বিতীয় রেলসেতু নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করতে।
জানা গেছে, বিট্রিশ আমলে ১৮৯৯-১৯০০ সালে তিস্তা নদীর ওপর ওই রেলসেতুটি নির্মিত হয়। এর এক পাশে রংপুরের কাউনিয়া অপর পাশে লালমনিরহাট। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্য একটি সেতু থেকে স্প্যান, গার্ডার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে ১৯৭২ সালে তা মেরামত করা হয়। সেতুটির মেয়াদ ১০০ বছর ধরা হলে ২০০০ সালে সেতুটি শত বছর পার করেছে। বর্তমানে সেতুটি মেয়াদোত্তীর্ণের ২৬ বছর চলছে। সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোকে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার গতিতে চালাবার কথা। ওই গতিতে চলা সম্ভব নয়। এ ছাড়া মালবাহী ট্রেন সেতুর ওপর উঠলে সেতু ও ট্রেন দুটিই অইেশ কাঁপে। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ টির মতো ট্রেন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে। নতুন সেতু নির্মাণ হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করতে হবে না।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুল হক কতশী বলেন, সমীক্ষা, নকশাসহ সব কিছুই চূড়ান্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।
