ইরান ইস্যুতে কংগ্রেসের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানালেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় থাকায় যুদ্ধের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কংগ্রেসের আলাদা কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, প্রশাসনের বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির ফলে যুদ্ধের সময়সীমার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তার ঘড়ি আপাতত থমকে গেছে। হেগসেথ স্পষ্ট করেন, যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন পড়ে, তবে সেটি একান্তই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কোনো আসন্ন হুমকি বা হামলার বিপরীতে সামরিক অভিযান শুরুর পর কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলে আইনত প্রেসিডেন্টকে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হয়। গত ২ মার্চ ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাত শুরুর বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করার পর অনেক আইনপ্রণেতা মনে করছেন যে গত শুক্রবার, ১ মে সেই ৬০ দিনের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে হেগসেথ এই যুক্তি মানতে নারাজ।
তার মতে, ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক হামলার নির্দেশ দেন, তবেই কেবল কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্ন উঠবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, যুদ্ধের বিকল্প সব সময়ই খোলা রয়েছে এবং ইরান সেই বিষয়টি ভালো করেই জানে। ইরানের গতিবিধি এবং ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হেগসেথ দাবি করেন, অভিযান শুরুর সময়ের চেয়ে বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর সক্ষমতা অনেক বেশি এবং প্রয়োজনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার পূর্ণ অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে। যদি ইরান চুক্তির শর্ত পালনে বা নতুন কোনো সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ও মারমুখী অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি এতটা চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: সিএনএন
