বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মডেল হচ্ছে খুলনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
খুলনায় বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের কার্যক্রম জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মডেল টাউন হতে যাচ্ছে খুলনা। প্রকল্পের আওতায় এখানে প্রতিদিন ৩৭৫ টন বর্জ্য দিয়ে ১৫ টন জৈব সার, ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ও ৫ হাজার লিটার ডিজেল উৎপাদন করা হবে। তবে প্রথম পর্যায়ে ১৪ টন প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে ৫ হাজার লিটার ডিজেল তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্ল্যান্টটি পূর্ণাঙ্গ আকারে চালু হবে। এদিকে গতকাল ডুমুরিয়ার সলুয়ায় ‘ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ডফিল অ্যান্ড রিসোর্চ রিকভারি ফ্যাসিলিটি’ প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ প্রকল্প কর্মকর্তারা।
প্ল্যান্টের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ল্যান্ডফিল সেল, কম্পোস্ট প্ল্যান্ট ও প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ ও প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি ডিজেল তৈরির যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। দূষিত পানি পরিশোধনের জন্য লিসেট ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি, ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা হয়েছে। ‘পাইরোলাইসিস’ প্রযুক্তি মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে উচ্চ তাপে পুড়িয়ে বাষ্পীভূত ও পরে ঘনীভূত করে তরল জ্বালানিতে রূপান্তরিত করা হবে। সিটি করপোরেশন প্রকল্পটি তদারকির দায়িত্বে রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এটি চালু হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। খুলনা হবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মডেল টাউন। প্রতিদিন খুলনায় প্রায় ১ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। সারা শহরের বর্জ্য এখানে আসবে। এখানে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত তেল, সার গ্যাস বিক্রি করা হবে। এজন্য মার্কেটিং করা হবে।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় সলুয়ায় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট নির্মাণ হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ৫২ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্সকে প্ল্যান্ট নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নানাভাবে সময় ক্ষেপণের পর শেষ পর্যন্ত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ডিজেল উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রকল্পে মূল তিনটি অংশে কম্পোস্ট প্ল্যান্টে শেডের কাজ শেষের পথে। যন্ত্রপাতি সংযোজন চলছে। বর্জ্য শোধনের জন্য মাটির নিচে ১২টি লিসেট কালেকশন পিট নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তা হামিদুল হক জানান, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্ল্যান্টে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ডিজেল উৎপাদনের অংশটি চালু করা হবে। শুরুতে ১৪ টন প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ৫ হাজার লিটার ডিজেল তৈরি হবে। এরপর ধাপে ধাপে পচনশীল বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও সার তৈরি করা হবে। প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ।
