পাকিস্তান ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’, জাতিসংঘে ভারতের তোপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে কিছুটা রেষারেষি থাকেই। তবে ভারত-পাকিস্তানের মতো উত্তেজনাকর প্রতিবেশী বিশ্বে খুব বেশি নেই। ১৯৪৭ সালে একদিন আগে-পরে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের পারস্পরিক সম্পর্ক অবিশ্বাস, আস্থাহীনতা আর উত্তেজনায় ঠাসা। একাধিকবার যুদ্ধেও জড়িয়েছে দেশ দুটি। সীমান্তে টুকটাক সমস্যা লেগেই থাকে। তবে গত বছর পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এবার জাতিসংঘে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সেই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের সভায় পাকিস্তান এবং ওআইসি জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনে। ভারত তার জবাব দিয়েছে তীব্র ভাষায়। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব অনুপমা সিং পাকিস্তানকে অভিহিত করেছেন ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ হিসেবে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বসেছে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের ৬২তম অধিবেশন। সেখানে পাকিস্তান-ভারতের পাল্টাপাল্টি কথার লড়াই হয়েছে। বুধবার জাতিসংঘের সভায় জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে অনুপমা সিং বলেন, ‘পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে আশ্রয় দিয়েছে। প্রশিক্ষণ ও মদদও দিয়েছে। এই শক্তিগুলোই এখন পাকিস্তানের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

পাকিস্তানকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ অভিহিত করে অনুপমা সিং বলেন, ‘নিজের তৈরি দানব যখন ফিরে এসে কামড়ায়, তখন অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

অনুপমা সিং পাকিস্তানের পরিস্থিতিকে অদ্ভুত প্যারাডক্স হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি এমন একটি দেশ, যেখানে খোদ প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিজেই রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের মোতায়েন করার কথা স্বীকার করেন। অথচ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই পাকিস্তানই আবার নিজেকে সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে দাবি করে।’

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা তুলে ধরে অনুপমা সিং বলেন, ‘রাওয়ালকোটে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমিয়ে রাখার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবাধিকারের কথা বললেও পাকিস্তান নিজের দেশের সমস্যাগুলো নিয়ে নীরব। ভারতের দাবি, সন্ত্রাসবাদকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার নীতির ফলেই পাকিস্তান আজ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সংকটের মুখে। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনুপমা।

জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে অনুপমা সিং বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights