১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি, ব্যারিস্টার ফুয়াদকে আইনি নোটিশ

অনলাইন ডেস্ক

‘বাংলাদেশের সব ফ্যাসিস্ট, টাউট ও ক্রিমিনাল তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’- এমন বক্তব্যের জন্য আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরাবরে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে একশো কোটি টাকা মাত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করার কারণে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে জরুরি আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ চেয়ে নোটিশে বলা হয়, গত ১ জুলাই ঢাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং অনুষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, মানহানিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

এই ধরনের বেপরোয়া ও অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, খ্যাতি ও সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এই মন্তব্যগুলো লাখ লাখ প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মনে গভীর মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

অতএব, এই নোটিশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নলিখিত দাবিগুলো পূরণ করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে-

এক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার জন্য ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ; দুই. ১ জুলাই প্রদত্ত অবমাননাকর বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েন কাছে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা; তিন. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে একশো কোটি টাকা প্রদান করুন, যা সরাসরি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিল’-এ জমা দেওয়া হবে, যাতে এটি একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

দাবিগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হন বা ৭২ ঘণ্টার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেন, তবে জনস্বার্থে হাইকোর্ট রিট করার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবী তনয় কুমার সাহা শনিবার (৪ জুলাই) জানান, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইমেইলযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights