মরুভূমি রুখতে ৬৬ বিলিয়ন গাছ: কৃত্রিম বনায়নে প্রাকৃতিক বনকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে চীন

অনলাইন ডেস্ক
মরুভূমিকরণ ঠেকাতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত চীনের বৃহৎ বনায়ন কর্মসূচি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৯৭৮ সালে শুরু হওয়া ‘থ্রি নর্থ শেল্টারবেল্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় দেশটি এ পর্যন্ত প্রায় ৬৬ বিলিয়ন অর্থাৎ ৬ হাজার ৬০০ কোটি গাছ লাগিয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের তৈরি এসব কৃত্রিম বন প্রাকৃতিক বনের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণেও উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা দেখাচ্ছে।

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স এ ২০২৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণার বরাত দিয়ে লাইভ সায়েন্স এ তথ্য জানিয়েছে।

গবেষণায় পিকিং ইউনিভার্সিটির শেনঝেন ক্যাম্পাসের ল্যান্ডস্কেপ ইকোলজিস্ট যুহাং লুওর নেতৃত্বে একদল গবেষক কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক বনের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করেন। বনের ঘনত্ব এবং পাতার পরিমাপ বা লিফ এরিয়া ইনডেক্স বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন, চীনের কৃত্রিম বন প্রাকৃতিক বনের তুলনায় ৬৬ শতাংশ দ্রুত ক্যানোপি বা পাতার বিস্তার ঘটিয়েছে।

বনের বয়স, মাটির গুণাগুণসহ বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করার পরও দেখা গেছে, কৃত্রিম বনগুলো প্রাকৃতিক বনের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে মিশ্র বন ও চিরহরিৎ বনের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি।

গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বনের দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে মানুষের নিবিড় পরিচর্যা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। আগাছা পরিষ্কার, নিয়মিত সার প্রয়োগ এবং পপলার ও ইউক্যালিপটাসের মতো দ্রুত বর্ধনশীল গাছ লাগানোর কারণে এসব বন বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারছে। ফলে সালোকসংশ্লেষণও বাড়ছে।

তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি গবেষকরা সতর্কতাও জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃত্রিম বনের দ্রুত বৃদ্ধির সুবিধা সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত থাকে। এরপর এর প্রবৃদ্ধি কমে যায়। বিপরীতে, প্রাকৃতিক বন তুলনামূলক ধীরগতিতে বাড়লেও শত শত বছর ধরে কার্বন সংরক্ষণ করতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর গবেষক কেভিন ডিসুজা এবং বিজ্ঞানী কে. চেংের মতে, গাছ কত দ্রুত বাড়ছে, সেটিই একমাত্র বিবেচ্য নয়। দীর্ঘ সময় ধরে কাণ্ড, শিকড় এবং মাটিতে কার্বন ধরে রাখার সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় প্রাকৃতিক বন এখনো সবচেয়ে কার্যকর।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সবুজায়ন বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশ এসেছে চীন ও ভারতের অবদান থেকে। এর মধ্যে চীনের মোট অবদানের ৪২ শতাংশই এসেছে তাদের বৃহৎ বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা দেখায় যে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কার্বন শোষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিকল্প নয়। চীন ২০৫০ সালের মধ্যে আরও ৩৪ বিলিয়ন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকে নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: ইকোনমিক টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights