ইরান আর জাহাজে হামলা করবে না, নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন চায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিক যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত এবং তারা বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আর কোনো হামলা চালাবে না।

গত সপ্তাহে তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে উঠেছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্বীকার করেছে, জাহাজগুলোতে হামলার ঘটনাটি তাদের পক্ষ থেকে একটি ভুল ছিল এবং এর পেছনে কোনো একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই হামলার কারণে পূর্বের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত শেষ হয়ে গেছে, তবে সংকট নিরসনে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাল্টা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং উচ্চপদস্থ মার্কিন প্রতিনিধিরা ওমানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। একই সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ওমানি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার জন্য সেখানে অবস্থান করছেন। ওমান ও কাতারের মতো আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের প্রতি এই বার্তা দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখার বিষয়ে ইরানকে জনসমক্ষে অঙ্গীকার করতে হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, ইরান যদি এই শর্ত মেনে না নেয় তবে তাদের জন্য এর পরিণাম শুভ হবে না।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই প্রণালী ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিপরীতমুখী অবস্থান রয়েছে। ইরান দাবি করছে যে, তাদের জলসীমা দিয়ে যাতায়াতের সময় জাহাজগুলোকে টোল বা মাসুল দিতে হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথকে অবাধ ও মুক্ত রাখার পক্ষে অনড়।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ইরানের গুপ্তহত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, এমন কোনো চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights