লোহিত সাগরে নতুন সংকটের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরেও তৈরি হচ্ছে সামরিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা। সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণার অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়ামেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। তাদের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বাব আল-মানদাব প্রণালী ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সরবরাহে দ্বিতীয় এক মারাত্মক অচলাবস্থা।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিরা ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামে দুটি সৌদি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা এসপিএ-র দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা ‘এনসেলিয়া’ ট্যাঙ্কারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলার পরপরই জাহাজটির সামনের অংশে আগুন ধরে যায় এবং সেখান থেকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। তবে দ্বিতীয় ট্যাঙ্কারটির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। এই হামলার ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে বড় ধরণের তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। বাব আল-মানদাব প্রণালীতে ঝুঁকি এড়াতে পাঁচটি তেলের ট্যাঙ্কার নিজেদের দিক পরিবর্তন করেছে এবং একাধিক বড় আন্তর্জাতিক চালানের জাহাজ ঘুরিয়ে উত্তর দিকের সুয়েজ খালের দিকে রওনা হয়েছে, যার ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত কয়েক সপ্তাহ সময় ও বিপুল খরচ বেড়ে যাবে।

এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানে টানা ১২ দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, সমুদ্রসীমায় নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্টের পক্ষ থেকে তাদের সামরিকভাবে অনেকটাই দুর্বল করে দেওয়ার দাবি জানানো হলেও ইরান এখনও যথেষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা প্রদর্শন করে চলেছে। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি মার্কিন মিসাইল হামলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ পানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিআক্রমণ চালিয়েছে।

সংকট আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা চালানো হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো বেসামরিক বা সরকারি অবকাঠামোয় হাত দেয়, তবে পুরো অঞ্চলের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো গুড়িয়ে দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। উভয় পক্ষের এই তীব্র পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান এবং দ্বিতীয় নৌ-পথটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights