বিকল্প স্থানে হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ
মোবাশ্বির শ্রাবণ, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ মহানগর হকার দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিকল্প জায়গায় হকাররা যেতে চাচ্ছেন না। কারণ, সেখানে গেলে তাদের বেচাকেনা হবে না। অধিকাংশ হকার বিকল্প স্থানে যাওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করছেন
নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে বসা হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। তাদের শহরের প্রধান সড়কের পরিবর্তে ২ নম্বর রেলগেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেল সড়কের পাশের জায়গায় পুনর্বাসন করা হবে। তাই সিটি করপোরেশন ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে জায়গা প্রস্তুত করছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, হকারদের বসার সুবিধার্থে ইটের সলিং বিছিয়ে জায়গা শক্ত ও সমতল করা হচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হকারদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রথমে একটি তালিকা করা হবে। প্রকৃত হকারদের শনাক্ত করে জায়গা দেওয়া হবে। আগে যাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তাদের একইভাবে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত স্থানের পরিমাপ শেষে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করা হবে। প্রতিটি স্টলের নম্বর নির্ধারণ করা হবে এবং সেই নম্বর অনুযায়ী হকাররা ব্যবসা পরিচালনা করবেন।
তবে স্থানান্তর নিয়ে হকারদের দ্বিমত রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, ওই এলাকায় যদি হকারদের স্থানান্তর করা হয় তাহলে ট্রেনের কারণে এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় আমাদের বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে যদি এখানে কেনাকাটা করতে এসে কেউ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায় তাহলে এর দায় কে নেবে?
নারায়ণগঞ্জ মহানগর হকার দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মুসা বলেন, বিকল্প জায়গায় হকাররা যেতে চাচ্ছেন না। কারণ, সেখানে গেলে তাদের বেচাকেনা হবে না। অধিকাংশ হকার বিকল্প জায়গায় যাওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করছেন। তারা সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন।
নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘এ শহরে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রয়েছে। সবার স্বার্থ রক্ষা করে একটি সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আপাতত রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায় তাদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে যাকেতাকে হকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। জায়গাটি অনেক বড়। পরিবেশ উন্নয়ন করা গেলে ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে এখানে আসবেন। সামনের দিকে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এতে হকাররা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।’
রেললাইনের পাশের স্থানে অস্থায়ী মার্কেট নির্মাণে নিরাপত্তা ঝুঁঁকির বিষয়ে নাসিক প্রশাসক বলেন, নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আপাতত চাষাঢ়া থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। পরে সেখানে ইটের স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ করা হবে। যাতে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষের কোনো ঝুঁকি না থাকে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
