১৯৮ থেকে ৪২৬, হাসানের আগুনে বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া নাস্তানাবুদ

অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের গল্পে ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি কিংবা মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্য যতটা আলোচনায় থাকবে, ততটাই থাকবে হাসান মাহমুদের আগুনে বোলিং। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দুই ইনিংসেই চাপ তৈরি করে শেষ পর্যন্ত ম্যাচসেরা হয়েছেন এই পেসার।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল। কিন্তু শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের সামনে স্বস্তিতে ব্যাট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সেই ধসের সবচেয়ে বড় কারিগর হাসান মাহমুদ। মাত্র ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট।

হাসানের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় দিক ছিল নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথ। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড থেকে শুরু করে নিচের সারির ব্যাটারদেরও তিনি একে একে ফেরান। তার ছয় শিকারের তালিকায় ছিলেন ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড, স্টিভ স্মিথ, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়ন।

অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ করে ৪২৬। তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪, মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ ও মুমিনুল হকের ৪৯ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ২২৮ রানের বড় লিড। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আবারও সামনে আসেন হাসান। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকরা ২৮৪ রান পর্যন্ত যেতে পারলেও হাসান নেন আরও ৩ উইকেট। ফলে ম্যাচে তার মোট শিকার দাঁড়ায় ৯টি।

ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার পর হাসান জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোলিংয়ের পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি ছিল। কোচিং স্টাফের সঙ্গে পরিকল্পনা এবং ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, মাঠে সেটিই বাস্তবায়ন করেছেন তারা। তার মতে, উইকেট ভালো থাকলেও বোলাররা ধৈর্য ধরে নিজেদের লাইন ও লেংথে বল করে গেছেন।

হাসানের এই পারফরম্যান্সের গুরুত্ব শুধু ৯ উইকেটের সংখ্যায় নয়। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে দুই ইনিংসেই চাপে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়ার পতন এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পেছনে তার অবদান ছিল অন্যতম।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। তানজিদ শুরুতেই ফিরে গেলেও সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যান। বাংলাদেশ জয় পায় ৯ উইকেটে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের স্কোরকার্ডে তাই হাসান মাহমুদের ৯ উইকেট আলাদা করে লেখা থাকবে। ১৯৮ থেকে ৪২৬, এরপর আবার ২৮৪—ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে দুই ইনিংসেই অস্বস্তিতে রাখার গল্পে হাসানের বোলিংই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় শক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights