ভাসমান নৌকার হাট

এস এম তানভীর আহমেদ, পিরোজপুর

নদী ও খালে ঘেরা পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা যুগের পর যুগ ধরে জলপথকেন্দ্রিক। যাতায়াত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতেই এখানে প্রধান ভরসা ডিঙি নৌকা। স্থানীয়দের প্রয়োজন মেটাতে শুরু হওয়া এ নৌকা তৈরির শিল্প সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। নৌকা বিক্রির শতবছরের পুরোনো এ ভাসমান হাটটি এখন দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অনন্য প্রতীক।

বর্ষা মৌসুমে নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানায় বসে এ ভাসমান নৌকার হাট। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই তিন মাসজুড়ে জমে ওঠে বেচাকেনা। সরেজমিন দেখা যায়, পানিতে ভাসছে সারি সারি ছোটবড় নৌকা। ডাঙাতেও সাজানো রয়েছে শত শত ডিঙি। চোখ মেললেই মনে হয় যেন নৌকার এক আলাদা রাজ্য। সপ্তাহের সোম ও শুক্রবার হাট বসলেও শুক্রবার ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বেচাকেনা চললেও মূল কেনাবেচা হয় সকালেই। পিরোজপুরের পাশাপাশি বরিশাল, ঝালকাঠি ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা ছুটে আসেন এখানে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, এ অঞ্চলে বর্ষায় খালপারের বাগানগুলো থেকে পেয়ারা ও আমড়া সংগ্রহ, চাঁই দিয়ে মাছ ধরা কিংবা গবাদিপশুর খাবার সংগ্রহের জন্য নৌকার বিকল্প নেই। প্রতি হাটে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ নৌকা বিক্রি হয়। এই মৌসুমি হাটে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার নৌকা বিক্রি হয়। একসময় সুন্দরী কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি হলেও বর্তমানে কড়ই, চম্পল ও মেহগনি কাঠই প্রধান ভরসা। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় বেচাকেনা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে বলে জানান স্থানীয় বিক্রেতারা। পিরোজপুর বিসিকের উপব্যবস্থাপক এইচ এম ফাইজুর রহমান জানান, নেছারাবাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবিকা এই নৌকা শিল্পের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব নৌকা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ঐতিহ্যবাহী এই ভাসমান হাট কেবল স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রই নয়, বরং দেশিবিদেশি পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights