বিদেশের মাটিতে পেসাররা সাফল্য এনে দিতে সক্ষম: তালহা জুবায়ের

অনলাইন ভার্সন

পেস বোলিংয়ে নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ডারউইনে অনুষ্ঠিত ওই টেস্টের জয়ের পর সিরিজে এগিয়ে যায় টাইগাররা। তবে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ হেরে গেলেও, শরীফুলরা দুর্দান্ত বোলিং করেছেন।

তাইতো টাইগারদের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের বোলারদের নিয়ে স্বপ্নের কথা জানালেন। তিনি জানান, বিদেশের মাটিতে সাফল্য পাওয়ার বিষয়ে তারা এখন আত্মবিশ্বাসী। কারণ তাদের পেস বোলিং ইউনিট এমন এক আস্থার জায়গা তৈরি করেছে, যা প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম। অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক এক সফর শেষে বাংলাদেশ দল দেশে ফিরেছে।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তালহা বলেন, যখন আপনার পেস বোলাররা ভালো পারফর্ম করে, তখনই বিদেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জেতার বাস্তবসম্মত আশা করা যায়। আপনাকে ২০টি উইকেট নিতেই হবে। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য একটি ভালো লক্ষণ। আমি আশা করি তারা তাদের এই ফর্ম ধরে রাখতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, দেখুন, এটা একটা দলীয় খেলা। একটা বিষয় অবশ্যই ভাবার মতো, ব্যাটাররা যদি আরেকটু ভালো খেলতেন, তবে দ্বিতীয় টেস্টে আমরা হয়তো আরও ভালো ফলাফল করতে পারতাম বা আরও কার্যকরভাবে খেলতে পারতাম। দ্বিতীয় টেস্টে টসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ উইকেটে টেনিস বলের মতো বাড়তি বাউন্স ছিল। আমরা সেটার সাথে মানিয়ে নিতে পারিনি, ওখানেই আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছিল।

টাইগার পেস বোলিং কোচ বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের ওপর এমন আধিপত্য বিস্তার করা, যেখানে তারা একটা সেশনের জন্যও আমাদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি তা বিশাল ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়া কতটা দুর্দান্তভাবে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে। প্রথম টেস্টে তারা কোনোভাবেই আমাদের সমকক্ষ হতে পারেনি। দ্বিতীয় টেস্টে আমরা জানতাম, অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। শেষ পর্যন্ত টসটাই খুব নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। টস যদি আমাদের পক্ষে যেত, তবে ম্যাচের ফলাফল হয়তো অন্যরকম হতে পারত।

তিনি বলেনম অস্ট্রেলিয়াকে হারানো আমাদের জন্য অনেক বড় একটি অর্জন। এটি বিশ্ব ক্রিকেটে বার্তা দিয়েছে, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে সক্ষম। আমাদের আগামী সফরগুলোতে এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কাজে আসবে। তালহা জানান, জাতীয় দলের ফাস্ট বোলারদের দিকনির্দেশনা দিতে তার কোনো সমস্যা হয়নি, কারণ ছোটবেলা থেকেই তাদের সাথে তার বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পারিবারিক কারণে শন টেইট দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি জাতীয় দলের এই পদে যোগ দিয়েছিলেন।

সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ফাস্ট বোলারদের কোচিং করাচ্ছি। বোলারদের নিয়ে কাজ করাটা আমার জন্য নতুন কিছু ছিল না। নতুন যা ছিল তা হলো অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ও কৌশল সাজানো। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আমাদের অ্যানালিস্ট শাওন অনেক সাহায্য করেছেন। সেই দুর্বলতাগুলোকে লক্ষ্য করা এবং সে অনুযায়ী বল করাটা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাদের প্রতিটি ব্যাটারের দুর্বল জায়গা লক্ষ্য করেই প্রচুর বল করেছি। প্রথম টেস্টের আগে আমাদের প্রস্তুতি ছিল চমৎকার। সবাই পরিস্থিতির সাথে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছিল। আগামীতে পেস বোলারদের সঙ্গে পরিকল্পনার করে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights