বিশ্বজুড়ে এক সপ্তাহে ৫ বার অচল চ্যাটজিপিটি, বিপাকে গ্রাহকরা

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি আবারও বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ফলে মারাত্মক বিপাকে পড়েন গ্রাহকরা। ওপেনএআই-এর এই ফ্ল্যাগশিপ এআই সার্ভিসটি গত তিন দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বজুড়ে অচল হয়ে পড়ে। হঠাৎ করে সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে বিশ্বের সব দেশের কোটি কোটি কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী চরম বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে যারা দৈনন্দিন কর্মক্ষেত্রে বা পেশাগত কাজে এই চ্যাটবটের ওপর নির্ভরশীল, তারা হঠাৎ করেই তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হন।

অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের পাঠানো প্রম্পটগুলো পুরোপুরি ফ্রিজ হয়ে যায় বা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন চ্যাটজিপিটি প্লাসের অর্থ প্রদানকারী প্রিমিয়াম গ্রাহকরা, কারণ এর বিশেষ ‘ওয়ার্ক মোড’ সিস্টেমটি ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ওপেনএআই-এর অফিসিয়াল স্ট্যাটাস পেজে বিষয়টি স্বীকার করে জানানো হয়, চ্যাটজিপিটির ওয়ার্ক মোডে উচ্চমাত্রায় এরর দেখা দিয়েছে এবং তাদের প্রযুক্তিবিদ দল দ্রুত সমস্যাটি খতিয়ে দেখে তা সমাধানের জন্য কাজ করছে।

সার্ভার ডাউন হওয়ার সময় বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী অদ্ভুত সব বিভ্রাটের মুখোমুখি হন। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী জানান যে চ্যাটজিপিটির অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে কোনো প্রশ্নের প্রম্পট দিলে তা প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছিল না বা কোনো উত্তর লোড হচ্ছিল না। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, একটি প্রম্পটের উত্তর দেয়ার পরেই হঠাৎ করে সিস্টেমটি উত্তর তৈরি করা বন্ধ করে দিচ্ছিল অথবা নিজে থেকেই সেশন শেষ করে দিচ্ছিল। ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ উভয় মাধ্যমেই এই একই জটিলতা দেখা যায়।

ডিজিটাল সেবার ওপর নজর রাখা বৈশ্বিক ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরের তথ্যানুযায়ী, এই বিভ্রাটের সময় কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ১৩ হাজার ব্যবহারকারী অফিশিয়ালি অভিযোগ নথিবদ্ধ করেন। ডাউনডিটেক্টরের পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্ত ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৭৭ শতাংশই চ্যাটজিপিটি ওয়েবসাইটের মূল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সমস্যার কথা জানান। এছাড়া ১০ শতাংশ ব্যবহারকারী কোডেক্স ব্যবহারে এবং ৭ শতাংশ ব্যবহারকারী ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে জটিলতায় পড়েন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ঠিক তিন দিন আগে, গত ৩১ আগস্টও ওপেনএআই তাদের অফিসিয়াল ড্যাশবোর্ডে একই ধরনের একটি গুরুতর আন্তর্জাতিক বিপর্যয়ের কথা নিশ্চিত করেছিল। সেদিন ওয়ার্ক মোডে এক্সেস না মেলায় চ্যাটজিপিটি প্লাস গ্রাহকরা বড় ধরনের ধীরগতি ও ত্রুটির শিকার হন। অবাক করার বিষয় হলো, ৩১ আগস্টের ঠিক চার দিন আগে অর্থাৎ ২৭ আগস্টও একই ধরনের আরেকটি গোলযোগ দেখা গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে একটি নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হতে দেখা যাচ্ছে। বারবার চ্যাটজিপিটি অচল হয়ে পড়ায় এখন কোটি কোটি ব্যবহারকারী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল আধুনিক প্রযুক্তি খাতের নির্ভরশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights