ইয়েমেনে হুতিদের অস্ত্রভাণ্ডারে বিমান হামলা
অনলাইন ডেস্ক
ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ইয়েমেনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যম ওয়েস্ট কোস্ট জানিয়েছে, মারিবের আল-জুবাহ জেলায় হুতিদের নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
একই সময়ে মারিবের হারিব জেলায় হুতিদের একটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। তবে ওই অভিযানে কতজন অংশ নিয়েছিল বা এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
তায়েজ বিমানবন্দরেও হামলা
মারিবের পাশাপাশি ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েজ প্রদেশেও হুতিদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
তায়েজ সামরিক কমান্ডের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, তায়েজ বিমানবন্দরে থাকা হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তায়েজের পূর্বাঞ্চলীয় খাদির এলাকায় স্থানীয় পরিষদ ভবনে হুতি নেতাদের একটি বৈঠক চলার সময়ও বিমান হামলা চালানো হয়।
তবে ওই বৈঠকে হুতিদের কোনও শীর্ষ পর্যায়ের নেতা উপস্থিত ছিলেন কি না, কিংবা হামলায় তাদের কেউ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
বাড়ছে হুতি ও সরকারি বাহিনীর সংঘাত
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে তায়েজ প্রদেশে গত কয়েক সপ্তাহে হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান, সামরিক রসদবাহী শক্তিবৃদ্ধি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মারিবও ইয়েমেনের সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র। দেশটির তেল ও গ্যাসসম্পদ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে হুতি ও সরকারপন্থি বাহিনীর মধ্যে এ অঞ্চল নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।
সর্বশেষ হামলাগুলো থেকে ইঙ্গিত মিলছে, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ও সরবরাহব্যবস্থাকে দুর্বল করতে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল এবং সম্ভাব্য সামরিক সমাবেশস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
তবে হামলাগুলোর সঙ্গে কোন দেশের বিমানবাহিনী সরাসরি জড়িত, তা স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
