৮ বছরেও হয়নি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নিজস্ব ঠিকানা
নজরুল মৃধা, রংপুর
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। তবে ৮ বছর আগে যাত্রা শুরু করলেও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এখনো হয়নি নিজস্ব ঠিকানা। জেলা প্রশাসকের পুরাতন কার্যালয়ে চলে মোট্রো পুলিশের কার্যক্রম। ওই ভবনের একপাশে আরপিএমপি কার্যালয়। অন্যপাশে জেলা প্রশাসনের কয়েকটি দপ্তর রয়েছে। নিজস্ব স্বকীয়তা নেই। নগরীর বুড়িহাট সড়কে ভাড়া বাড়িতে চলছে পুলিশ লাইন্সের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই অবস্থা চলে আসছে।
যানবাহন সংকটও পিছু ছাড়ছে না। নতুন কোনো যানবাহনের বরাদ্দও আসেনি। নগরীর ছয় থানায় রয়েছে হাতেগোনা ৬/৭টি গাড়ি। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের এবং যানবাহন মেরামতের বরাদ্দও পাওয়া যাচ্ছে না ঠিকভাবে। ফলে অভিযান চালাতে হিমশিম খেতে হয়। জনবল সংকট রয়েছে প্রকট। প্রতিষ্ঠার পর এটার তেমন জনবল বাড়েনি। ট্রাফিক পুলিশ ২০০ জনের বিপরীতে কাজ করছে ১০০ জন। ফলে যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে আরপিএমপি।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস.) তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রতিকূলতার মাঝেও আরপিএমপি সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ৮ বছরে আরপিএমপির সফলতা অনেক। উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সপ্তম বিভাগ হিসেবে রংপুর বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালের ২৮ জুলাই রংপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করা হয়। তখন থেকেই রংপুরের জন্য আলাদা মহানগর পুলিশের দাবি ওঠে। ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর আরপিএমপি আইনের খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদিত পায়। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রংপুর মহানগর পুলিশ বিল-২০১৮ উত্থাপন করা হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। সবশেষে ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রংপুর মহানগর পুলিশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
রংপুর সিটি করপোরেশনের আয়তন ২০৩ বর্গ কিলোমিটার হলেও ২৩৯.৭২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে আরপিএমপি’র কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মূলত মাহিগঞ্জ থানা ও হারাগাছ থানার অধীনে কয়েকটি ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রংপুরের বুড়িরহাট রোডে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আরপিএমপি পুলিশ লাইন্স চালু করা হয়। রংপুর মহানগর পুলিশ ৬টি থানা নিয়ে গঠন করা হয়েছে। থানাগুলো হচ্ছে কোতয়ালি, পরশুরাম, তাজহাট, মাহিগঞ্জ, হারাগাছ ও হাজীরহাট। রংপুর মহানগর পুলিশে প্রথম অবস্থায় একজন কমিশনার, একজন অতিরিক্ত কমিশনার, দুইজন উপকমিশনার, ছয়জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার, ১২ জন সহকারী কমিশনার, ২০ জন ইন্সপেক্টর, ১২০ জন এসআই ও ৭৫০ জন কনস্টেবলসহ ১১৮৫টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
