ইরান ইস্যুতে কঠিন রাজনৈতিক ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প!

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চান। তবে একই সঙ্গে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রভাবও তাকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। ফলে ইরানকে কী ধরনের ছাড় দেওয়া হবে, আর যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা হবে- এ নিয়ে ট্রাম্প এক ধরনের রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে পড়েছেন বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড স্মাইয়ার।

ওমান নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্মাইয়ার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প একদিকে সম্ভবত মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এড়িয়ে যেতে চাইছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধটি ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে দেশে জ্বালানি তেল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্মাইয়ার বলেন, “কিছু দিক থেকে তিনি অবশ্যই নভেম্বরের ৩ তারিখের নির্বাচনের পর পর্যন্ত বিষয়টি বিলম্বিত করতে চাইছেন। কিন্তু অন্যদিকে যুদ্ধটি খুবই অজনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের দাম অনেক বেশি।”

তার মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো এমন একটি নীতি মার্কিন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা, যে নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন খুব বেশি নেই।

“তাই যুদ্ধ যদি শেষ হয়, সেটি তার জন্য সুবিধাজনক হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- কী শর্তে যুদ্ধ শেষ হবে?” বলেন স্মাইয়ার।

তিনি মনে করেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে গিয়ে ট্রাম্প যদি ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দেন, তাহলে সেটিও নির্বাচনের আগে তার জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

‘মধ্যপথ’ খুঁজছেন ট্রাম্প
স্মাইয়ারের ভাষায়, ট্রাম্প এখন ‘আটকে’ আছেন। কারণ, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে তিনি যে শর্তগুলো মেনে নেবেন, সেগুলো নিয়েই দেশে সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।

সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত নিয়েও ট্রাম্প সমালোচিত হয়েছেন। অথচ ইরান বর্তমানে যে প্রস্তাব দিচ্ছে, তার শর্তগুলো অনেকটাই জুনের ওই সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে মিল রয়েছে।

ফলে নির্বাচনের আগে ট্রাম্প যদি ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেন কিংবা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, তাহলে তা তার জন্য রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থান তৈরি করতে পারে।

স্মাইয়ার বলেন, “উদাহরণস্বরূপ, নির্বাচনের আগে তিনি যদি ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেন বা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন, তাহলে সেটি তার জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”

তার মতে, ট্রাম্প এখন এমন একটি মধ্যপথ খুঁজছেন, যেখানে তিনি মার্কিন জনগণকে বলতে পারবেন যে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, কিন্তু একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে বাস্তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন না।

“আমি মনে করি, তিনি আমেরিকান জনগণকে বলার মতো একটি মধ্যপথ খুঁজছেন- ‘এটি শিগগিরই শেষ হবে’, কিন্তু নির্বাচনের আগে আসলে এটিকে শেষ না করার চেষ্টা করছেন,” বলেন স্মাইয়ার।

যুদ্ধ শেষ হলেও রাজনৈতিক ঝুঁকি
স্মাইয়ারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে ট্রাম্প অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। কারণ, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং যুদ্ধের জনপ্রিয়তাও কমে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক ছাড় দিতে হলে সেটি আবার ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়, ইরানি তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের অবসানের মতো পদক্ষেপকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ট্রাম্পের ‘ছাড় দেওয়ার নীতি’ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

ফলে যুদ্ধের দ্রুত অবসান এবং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ অবস্থান- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights